প্রবাদ আছে “নিজের পাতে ঝোল ঢালা”। কিন্তু সরকারকে নাগরিকদের পাতে ঝোল ঢালতে হয়। এই এই ঝোল ঢালার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে অনগ্রসরদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির বিধান আছে। এটাই কোটার উৎপত্তিস্থল। অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন, সমতা আনার, সাম্যের ভিত্তিতে সমাজ তৈরি করার জন্য কোটা ব্যবস্থা। যেন সবাই সমান সুযোগ পেতে পারে। বৈষম্য যেন রেষারেষি, হিংসা দ্বেষ সৃষ্টি না করতে পারে সেটিও একটি কারণ। কোটা ছাড়াও কোন কোন স্থলে নিজেদের সুযোগ সৃষ্টির জন্য যোগ্যতা শিথিল করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অন্য অনেক বিষয়ে কোটা আছে। বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে কোটা তাদের সুযোগ সুবিধার জন্য কোটা পদ্ধতি চালু রেখেছে। যেমন স্কুল-কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২%কোটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলে-মেয়েদের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার জন্য কোটা বা যোগ্যতা শিথিল করা আছে।
• বর্তমান সরকারের সময়ে ৫৬ ভাগ কোটা
৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা
১০ ভাগ নারী কোটা
১০ ভাগ জেলা কোটা
০৫ ভাগ উপজাতি কোটা
০১ প্রতিবন্ধী কোটা
• ১৯৭৬ সালে যা ৬০ ভাগ ছিল:
৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা
১০ শতাংশ নারী কোটা
১০ নির্যাতিত নারী কোটা
১০ জেলা কোটা
• ১৯৭২ সালে ৮০ ভাগ ছিলো:
৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা
১০ শতাংশ নির্যাতিত মহিলা কোটা
৪০ শতংশ জেলা কোটা
সুপারিশ: ২০২১ সাল
• কোটা নির্ধারণের বিষয়টি বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়। জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্থলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কোটা নির্ধারণ করবেন।
• পরিস্থিতি ও সময় অনুযায়ী dynamic করা যায়।
• কোটা কমানো যায়:
যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা কোটাযর উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ার জন্য খালি থাকছে। তাই বর্তমানের ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা ৫ ভাগ করা যায়।
১০ ভাগ নারী কোটা সাধারণভাবে ০৫ ভাগ করা যায়। তবে পদ অনুযায়ী বাড়তে পারে যেমন প্রাথমিক শিক্ষক।
১০ ভাগ জেলা কোটা ০৫ ভাগ করা যায়। তবে আরো সমতাভিত্তিক করার জন্য জেলা কোটা বাদ দিয়ে অনগ্রসর উপজেলা বাছাই করে কোটা রাখা যায়। এক জেলার মানুষ আর এক জেলায় সামরিক বসবাসের কোটার সুযোগ নিয়ে থাকে। এমনকি মিথ্যা তথ্য দিয়ে একজন মানুষ অন্য জেলার কোটা ভোগ করে থাকে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বিভাগে নিয়োগের সময় ও এমন কাণ্ড ঘটেছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত ও হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাও manage না হলে এটা কি করে সম্ভব?
০৫ ভাগ উপজাতি কোটা ০১ ভাগ করা যায়। আরো ০১ ভাগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য রাখা যায়।
প্রতিবন্ধী কোটা ০১ ভাগ রাখা যায়।
• এতিমখানা অবস্থানকারী এতিমরা সকলেই ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট পান না। তারা উপবৃত্তি ও পান না।
উভয় অভিভাবক হারা এতিমদের জন্য ১ ভাগ কোটা রাখা যায়।
• একটি পরিবারকে মাত্র একবার কোটা সুযোগ দেয়া যায়। এতে সমতার ভিত্তি বিস্তৃত হবে।
• বর্তমানে কোটা সুনির্দিষ্ট হলেও কোটার গণনায় স্বচ্ছতার অভাব।
শতকরা হার এর স্থলে সুনিদৃষ্ট সংখ্যা ঠিক করা যায় এতে গণনার জন্য সময় নষ্ট হবে না, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কম।
সুপারিশ: ২০৪১ সাল
• অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসরদের জন্য কোটা রাখা যায়। সেক্ষেত্রে population register তৈরি করতে হবে এবং ডিপার্টমেন্টের register তৈরি করতে হবে। population registerএ সকল নাগরিকের জন্য ভোটার আইডি কার্ডের মতো কোর তথ্য থাকবে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ প্রতিটি ব্যক্তির সেই বিভাগ সম্পর্কিত তথ্য রাখবে যার departmental রেজিস্ট্রার হিসেবে পরিচিত। এর ফলে সম্পত্তি, আর্থিক অবস্থা সহ অন্যান্য বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার উপযোগী হবে। ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সহজে নির্ণয় করে কোটা সুবিধা নির্ধারণ করা যাবে। population register এর সাথে departmental রেজিস্ট্রারের ইলেকট্রনিক interfacing থাকবে।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের কৌশল:
বর্তমানে আন্দোলনকারীরা যে পদ্ধতিতে চাকরি কোটা পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছেন তা আধুনিক বলে মনে হয় না। সনাতনী পদ্ধতিতে দাবি আদায় করার চেষ্টা করা বিপদজনক। যা সাম্প্রতিক শিক্ষকদের আন্দোলনে আমরা লক্ষ্য করেছি। মাননীয় প্রধাননমন্ত্রী যথেষ্ট সহানুভূতিশীল হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ায় সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের কাছে সুপারিশ:
হরতাল-মিছিল, পথ অবরোধ, ইত্যাদি না করে-
যারা কোটা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে কিংবা রাজনৈতিক-প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে লবিং করতে পারে। যারা মত পরিবর্তন করাতে পারে তাদের ব্যবহার করতে পারে।
