এন আই খান
সাবেক শিক্ষা সচিব
শিক্ষাকাল কর্মকাল সংযোগ:
বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পরের বছর ১৯৭৬ সালে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাই। যশোর থেকে সরাসরি ট্রেন থাকায় রাজশাহী আমাদের জন্য বেশি উপযোগী ছিল। এখনকার মতো তখন সবকিছু রাজধানীকেন্দ্রিক মন মানসিকতা ছিল না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ বৃক্ষরাজি ভরা বিশাল ক্যাম্পাস, বর্ষায় ট্রেনের মত পদ্মানদীর স্রোতের মনমুগ্ধকর আওয়াজ মনভরিয়ে দেওয়ার মত। তার সাথে উদ্ভিদবিদ্যায় ভর্তি হওয়া ছন্দের মতো মিলে গিয়েছিল। আমার সহপাঠী আর ছাত্রলীগ এবং বামপন্থী ছাত্র নেতৃত্বের এর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন করে নেওয়ায় সাহায্য করেছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনে কখনোই সুখকর ছিল না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আমাদের কাছে সব সময়ে সুমধুর ছিল। শিক্ষকদের সাথে ছাত্রের বাইরে বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৎকালীন সেনাশাসকদের নজরদারি ছিল ক্যাম্পাসের, সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়েছিল। পুলিশের নজরদারি থাকলেও তারা কখনোই দিনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতোনা। তবে মাঝে মাঝে রাতে হামলা করা হতো। ছাত্রদের সাথে সরকারের বিস্তর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল।
কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকার পর হাবিবুর রহমান হলে ঠাঁই পেলাম। হাবিবুর রহমান হল সবার জন্য কম পছন্দ হলেও আমার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল। তার মূলতঃ দুটি কারণ, একটি কারণ হচ্ছে সহজেই সিট পেয়ে যাব; দ্বিতীয়টি এখানে অনেক শিক্ষার্থী তাই সব সময় একটা আনন্দের ভেতর থাকবো, হয়েছিলও তাই। আমরা তখন প্রথম বর্ষে; তৎকালীন সময়ে প্রায়শ বিদ্যুৎ চলে যেত, এবং যখনি বিদ্যুৎ চলে যেত আমরা সবাই হাড়ি আর চামচ বাদ্যযন্ত্রের হিসেবে ব্যবহার করে আনন্দ করতাম, উচ্চস্বরে গান করতাম। এমনি গান করার সময় একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে বলল তোমাদের মা-বাপ তোমাদেরকে————–করার জন্য পাঠিয়েছে কিনা? কথাটি খুবই আপত্তিকর ছিল আমরা তখন প্রথম বর্ষে তারা তখন সরকারের প্রতিনিধি তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে শেকড় গাড়তে পারিনি। উদ্ধত কর্মকাণ্ডের জন্য শিক্ষার্থীরা বিরক্ত। তাই আমরা সবাই তাদেরকে ঘেরাও করলাম-তাদেরকে মাফ চাইতে হবে। সারারাত ঘেরাও করার পরে অবশেষে মাফ চাইলেন। আমরা তখন প্রথম বর্ষের, তারা সবাই উচ্চতর বর্ষের। তারা কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না তাই তারা শিক্ষার্থীদের মনের টান বোঝার চেষ্টা করেনি। সে শিক্ষা মাথায় রেখেছি, যখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছি তখনই শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের তাগিদ বোধ করেছি। সেই তাগিদ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্টুডেন্ট কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কাজের ধারাবাহিকতা ও পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হওয়ার একমাত্র কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রিয় অনুজ কিন্তু চাকরি জীবনে ব্যাচমেট শ্যামল কুমার ঘোষ আমার পর মহাপরিচালক হওয়ায় সে একই ধারাটি চালু রেখে তিনিই পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। আরোও সম্ভব হয়েছে দুজন যোগ্য সহকর্মীর জন্য তার একজন আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ তোফাজ্জল হোসেন দ্বিতীয়জন ব্যানবেইজ মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই শ্যামল কুমারের সাথে সম্প্রীতি গড়ে উঠেছিল তাই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। এরপর যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছি তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্টুডেন্ট কেবিনেট চালু করেছি এবং তা করা সম্ভব হয়েছে কারণ ব্যানবেইজ মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ মহাআনন্দে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছিলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অভিজ্ঞতাটি দেওয়ার জন্য আমার পক্ষে এই দুটি কাজ করা সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত এই প্রতিনিধিদের কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আরো গণতান্ত্রিক, সহনশীল, অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, এবং টিমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমি আশা করছি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর স্টুডেন্ট কাউন্সিল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কেবিনেটের দেখাদেখি অদূর ভবিষ্যতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নামেই হোক নির্বাচিত স্টুডেন্ট সংগঠন থাকবে তারা শিক্ষকদের সাথে মিলেমিশে শিক্ষা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে; শিক্ষার মানকে উন্নত করার জন্য একযোগে কাজ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অন্যতম প্রিয় জায়গা ছিল কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। অত্যন্ত খোলামেলা এবং মনোরম সবুজ পরিবেশের মাঝে এর অবস্থান। ক্লাস আর নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলেই আমার সহপাঠী মাজাহার, বাইজিদ, মজিদ ইত্যাদি দলবল সহ লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়াশোনা করতাম। দীর্ঘকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে উদ্ভিদবিদ্যার সব বই আমাদের পড়া হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমরা হামলা করলাম লাইব্রেরীর প্রাণিবিদ্যা সেকশনে। আমাদেরকে সারাদিন বসে বসে পড়তে হতো। কখনো কখনো আমার মনে হতো যদি এখানে শুয়ে শুয়ে পড়তে পারতাম, কিন্তু ফ্লোর পরিষ্কার থাকলেও শুয়ে পর আর কোনো কালচার ছিল না। কেউ শুয়ে পড়লে তাকে হয়তো পাগল ঠাওরাতো। পরিণত জীবনে যখন সিঙ্গাপুর গেলাম তখন দেখলাম তাদের পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরী সেখানে শুয়ে শুয়ে পড়া যায়; পড়ার পর ঘুমিয়ে আবার ঘুম থেকে উঠে পড়া যায়।
আমাদের স্কুল কলেজগুলোতে লাইব্রেরী আছে কিন্তু সেটা শুধু স্কুল বা কলেজ সময় খোলা থাকে। স্কুল আওয়ারে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ব্যস্ত থাকে তাদের পক্ষে ওই লাইব্রেরীতে পড়া সম্ভব না। তাই স্কুল কলেজের লাইব্রেরী ছাত্রদের কোন কাজে আসে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির আলাদা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। তাই ক্লাসের বাইরে সময় লাইব্রেরীতে লেখাপড়ার জন্য ব্যবহার করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। এরপর প্রাথমিক শিক্ষার ডিজি, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অতঃপর শিক্ষামন্ত্রী সচিব হিসেবে কাজ করেছি। মনে ইচ্ছা হয়েছে প্রতিটি স্কুলে পৃথক প্রশাসনিক পরিচালনায় লাইব্রেরী করার প্রস্তাব দিই। কিন্তু মনে হয়েছে এখনো মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত না। তাদেরকে প্রস্তুত করার জন্য কাজ করতে হবে। নতুবা উপরওয়ালাদের কাছে নালিশ করবে, পত্রিকার কাছে গোপনে রিপোর্ট ছাপানোর জন্য চিরকুট দিবে। তাই আর আগাতে পারেনি। আজকে আমি আপনাদের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরছি, আপনারা ভেবে দেখবেন যুক্তিযুক্ত কি না? আশা করি আপনারা প্রতিটি গ্রামে লাইব্রেরী করার জন্যএন আই খান
সাবেক শিক্ষা সচিব
শিক্ষাকাল কর্মকাল সংযোগ:
বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পরের বছর ১৯৭৬ সালে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাই। যশোর থেকে সরাসরি ট্রেন থাকায় রাজশাহী আমাদের জন্য বেশি উপযোগী ছিল। এখনকার মতো তখন সবকিছু রাজধানীকেন্দ্রিক মন মানসিকতা ছিল না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ বৃক্ষরাজি ভরা বিশাল ক্যাম্পাস, বর্ষায় ট্রেনের মত পদ্মানদীর স্রোতের মনমুগ্ধকর আওয়াজ মনভরিয়ে দেওয়ার মত। তার সাথে উদ্ভিদবিদ্যায় ভর্তি হওয়া ছন্দের মতো মিলে গিয়েছিল। আমার সহপাঠী আর ছাত্রলীগ এবং বামপন্থী ছাত্র নেতৃত্বের এর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন করে নেওয়ায় সাহায্য করেছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনে কখনোই সুখকর ছিল না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আমাদের কাছে সব সময়ে সুমধুর ছিল। শিক্ষকদের সাথে ছাত্রের বাইরে বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৎকালীন সেনাশাসকদের নজরদারি ছিল ক্যাম্পাসের, সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়েছিল। পুলিশের নজরদারি থাকলেও তারা কখনোই দিনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতোনা। তবে মাঝে মাঝে রাতে হামলা করা হতো। ছাত্রদের সাথে সরকারের বিস্তর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল।
কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকার পর হাবিবুর রহমান হলে ঠাঁই পেলাম। হাবিবুর রহমান হল সবার জন্য কম পছন্দ হলেও আমার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল। তার মূলতঃ দুটি কারণ, একটি কারণ হচ্ছে সহজেই সিট পেয়ে যাব; দ্বিতীয়টি এখানে অনেক শিক্ষার্থী তাই সব সময় একটা আনন্দের ভেতর থাকবো, হয়েছিলও তাই। আমরা তখন প্রথম বর্ষে; তৎকালীন সময়ে প্রায়শ বিদ্যুৎ চলে যেত, এবং যখনি বিদ্যুৎ চলে যেত আমরা সবাই হাড়ি আর চামচ বাদ্যযন্ত্রের হিসেবে ব্যবহার করে আনন্দ করতাম, উচ্চস্বরে গান করতাম। এমনি গান করার সময় একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে বলল তোমাদের মা-বাপ তোমাদেরকে————–করার জন্য পাঠিয়েছে কিনা? কথাটি খুবই আপত্তিকর ছিল আমরা তখন প্রথম বর্ষে তারা তখন সরকারের প্রতিনিধি তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে শেকড় গাড়তে পারিনি। উদ্ধত কর্মকাণ্ডের জন্য শিক্ষার্থীরা বিরক্ত। তাই আমরা সবাই তাদেরকে ঘেরাও করলাম-তাদেরকে মাফ চাইতে হবে। সারারাত ঘেরাও করার পরে অবশেষে মাফ চাইলেন। আমরা তখন প্রথম বর্ষের, তারা সবাই উচ্চতর বর্ষের। তারা কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না তাই তারা শিক্ষার্থীদের মনের টান বোঝার চেষ্টা করেনি। সে শিক্ষা মাথায় রেখেছি, যখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছি তখনই শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের তাগিদ বোধ করেছি। সেই তাগিদ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্টুডেন্ট কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কাজের ধারাবাহিকতা ও পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হওয়ার একমাত্র কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রিয় অনুজ কিন্তু চাকরি জীবনে ব্যাচমেট শ্যামল কুমার ঘোষ আমার পর মহাপরিচালক হওয়ায় সে একই ধারাটি চালু রেখে তিনিই পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। আরোও সম্ভব হয়েছে দুজন যোগ্য সহকর্মীর জন্য তার একজন আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ তোফাজ্জল হোসেন দ্বিতীয়জন ব্যানবেইজ মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই শ্যামল কুমারের সাথে সম্প্রীতি গড়ে উঠেছিল তাই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। এরপর যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছি তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্টুডেন্ট কেবিনেট চালু করেছি এবং তা করা সম্ভব হয়েছে কারণ ব্যানবেইজ মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ মহাআনন্দে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছিলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অভিজ্ঞতাটি দেওয়ার জন্য আমার পক্ষে এই দুটি কাজ করা সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত এই প্রতিনিধিদের কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আরো গণতান্ত্রিক, সহনশীল, অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, এবং টিমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমি আশা করছি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর স্টুডেন্ট কাউন্সিল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কেবিনেটের দেখাদেখি অদূর ভবিষ্যতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নামেই হোক নির্বাচিত স্টুডেন্ট সংগঠন থাকবে তারা শিক্ষকদের সাথে মিলেমিশে শিক্ষা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে; শিক্ষার মানকে উন্নত করার জন্য একযোগে কাজ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অন্যতম প্রিয় জায়গা ছিল কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। অত্যন্ত খোলামেলা এবং মনোরম সবুজ পরিবেশের মাঝে এর অবস্থান। ক্লাস আর নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলেই আমার সহপাঠী মাজাহার, বাইজিদ, মজিদ ইত্যাদি দলবল সহ লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়াশোনা করতাম। দীর্ঘকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে উদ্ভিদবিদ্যার সব বই আমাদের পড়া হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমরা হামলা করলাম লাইব্রেরীর প্রাণিবিদ্যা সেকশনে। আমাদেরকে সারাদিন বসে বসে পড়তে হতো। কখনো কখনো আমার মনে হতো যদি এখানে শুয়ে শুয়ে পড়তে পারতাম, কিন্তু ফ্লোর পরিষ্কার থাকলেও শুয়ে পর আর কোনো কালচার ছিল না। কেউ শুয়ে পড়লে তাকে হয়তো পাগল ঠাওরাতো। পরিণত জীবনে যখন সিঙ্গাপুর গেলাম তখন দেখলাম তাদের পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরী সেখানে শুয়ে শুয়ে পড়া যায়; পড়ার পর ঘুমিয়ে আবার ঘুম থেকে উঠে পড়া যায়।
আমাদের স্কুল কলেজগুলোতে লাইব্রেরী আছে কিন্তু সেটা শুধু স্কুল বা কলেজ সময় খোলা থাকে। স্কুল আওয়ারে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ব্যস্ত থাকে তাদের পক্ষে ওই লাইব্রেরীতে পড়া সম্ভব না। তাই স্কুল কলেজের লাইব্রেরী ছাত্রদের কোন কাজে আসে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির আলাদা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। তাই ক্লাসের বাইরে সময় লাইব্রেরীতে লেখাপড়ার জন্য ব্যবহার করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। এরপর প্রাথমিক শিক্ষার ডিজি, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অতঃপর শিক্ষামন্ত্রী সচিব হিসেবে কাজ করেছি। মনে ইচ্ছা হয়েছে প্রতিটি স্কুলে পৃথক প্রশাসনিক পরিচালনায় লাইব্রেরী করার প্রস্তাব দিই। কিন্তু মনে হয়েছে এখনো মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত না। তাদেরকে প্রস্তুত করার জন্য কাজ করতে হবে। নতুবা উপরওয়ালাদের কাছে নালিশ করবে, পত্রিকার কাছে গোপনে রিপোর্ট ছাপানোর জন্য চিরকুট দিবে। তাই আর আগাতে পারেনি। আজকে আমি আপনাদের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরছি, আপনারা ভেবে দেখবেন যুক্তিযুক্ত কি না? আশা করি আপনারা প্রতিটি গ্রামে লাইব্রেরী করার জন্য এবং তা ছুটির দিনসহ স্কুল সময়ের বাইরে খোলা রাখার জন্য মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন। পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী উভয় পড়াশোনা করতে পারবে। বুক রিডার আর ইলেকট্রনিক বইও থাকবে। আমার ইচ্ছা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দিয়ে যেন পূরণ হয়।
বি. দ্র.: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের জন্য 23 শে অক্টোবর ২০১৮ সকালে ঘুম থেকে উঠে লেখা
এবং তা ছুটির দিনসহ স্কুল সময়ের বাইরে খোলা রাখার জন্য মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন। পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী উভয় পড়াশোনা করতে পারবে। বুক রিডার আর ইলেকট্রনিক বইও থাকবে। আমার ইচ্ছা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দিয়ে যেন পূরণ হয়।
বি. দ্র.: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের জন্য 23 শে অক্টোবর ২০১৮ সকালে ঘুম থেকে উঠে লেখা
