আমি তখন ময়মনসিংহ সদরে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ অফিসার, নানা কারণে বিক্ষুব্ধও বটে। উপজেলা পরিষদের একটি গাড়ি ছিল উপজেলা চেয়ারম্যান সেটি ব্যবহার করতেন। উপজেলা চেয়ারম্যান উচ্চশিক্ষিত। পরিবারের অন্যান্য লোকজন উচ্চশিক্ষিত। তার এক ভাই সিভিল সার্ভিসের সদস্য ছিলেন। যতদূর মনে পড়ে ইপিসিএস কর্মকর্তা। উনি নিজে পেশাগতভাবে শিক্ষক ছিলেন। সবদিক থেকেই ভালো। কোন কোন সময় দুজনে একসাথে জিপি চড়তাম। এবং উনি নিজেই চড়তে বলতেন। সেখানে কোনো ঘাটতি ছিল না। উনি সামনের সিটে দরজার কাছে বসতেন, আমি তার ডান পাশে বসতাম। বেশিরভাগ সময় আমাকে আগে নামতে হতো। উনি সিট থেকে নামতেন না। ড্রাইভার কে নামতে বলতেন এবং ড্রাইভার এর দিক থেকে আমাকে ছেচড়িয়ে নামতে হতো। তরুণ অফিসার হিসাবে এটি আমার কাছে অবমাননাকর মনে হতো। খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম তার ভাই যেহেতু আমাদের চেয়ে অনেক বড় কর্মকর্তা ছিল তাই আমাদেরকে সে হিসাবে ধরতে চায় না। তাই এ ধরনের ট্রিটমেন্ট। পরবর্তীকালে অবশ্য এসব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। এর চেয়েও ঢের আপত্তিকর ঘটনা উপেক্ষা করেছি। যাহোক মনে মনে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছিল। সুযোগ পেয়ে গেলাম। অনেকদিন যাবৎ গাড়ির ব্লু বুক রিনিউ করা হয়নি। সদর ওসির সাথে তখনকার দিনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হতো। সদর থানা আমার ডাকবাংলার রাস্তার ঠিক উল্টো দিকে। ওসিকে কনসাল্ট করলাম যেন সে আমার সাথেই থাকে। সে সম্মতি দিল। মোবাইল কোর্ট করে নিজেদের গাড়িতে মামলা লাগিয়ে দিলাম। গাড়িটি জব্দ করে রাখা হল। চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাজকর্মে ভীষণ অসুবিধা, কিছুটা হলেও অবমাননাকর। অন্য সহকর্মীরা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আমি অনড় ছিলাম, বলেছি আইন আইনের মতো চলবে। চেয়ারম্যান মহোদয় ভালো ফ্যামিলির। বুদ্ধিমান মানুষ বটে, আমার কাছে একদিন আসলেন। তিনি ইতিমধ্যে খোঁজখবর নিয়ে আমার ক্ষোভের স্থানটা নির্ণয় করে ফেলেছেন। বিনা শর্তে সারেন্ডার করলেন। ইতিমধ্যে ব্লু বুক আপটুডেট হয়ে গেছে। এরপর যতবার দেখা হয়েছে পরস্পরের সাথে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে কথা বলেছি। পরবর্তীতে যখন আরো সিনিয়র হয়েছি তখন এই কৃতকর্মের জন্য লজ্জা বোধ করেছি। কিন্তু নিজেও শিখেছি Courtesy costs nothing but It’s lack tolls heavily.
Tags: সৌজন্য
Share this post






