এসএসসি পরীক্ষার পর ফল বের হতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগতো। কলেজে ক্লাসশুরু হতে আরো অনেক সময় লাগতো। এই সময় কোনো কাজ ছিল না। পরীক্ষা ভালো হলে মন ভালো আর খারাপ হলে মন খারাপ থাকে। তবে ভালো হলেও মনের ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কাজে ব্যস্ত থাকলে এই অনুভূতিগুলো বোঝা যায় না। অবসর সময়ে ঐ বয়সে রোমাঞ্চকর কিছু করতেও ইচ্ছে করে। তাই আমরা নিজেরা ব্যস্ত থাকার ব্যবস্থা করলাম। আমরা রাতে মাছ ধরার কাজে সময় ব্যয় করতাম। আমার সাথে পরীক্ষা দেওয়া আব্দুল লতিফ সম্পর্কে জ্ঞাতি চাচা আর আলী আকবর মন্টু সম্পর্কে জ্ঞাতি ভাই ও লাগোয়া প্রতিবেশী। লতিফ আর মন্টু নৌকা থেকে খেপলা ফেলতো আর আমি ডুব দিতাম। বাওড়ের নীচেয় ‘বোদ’ তাই জালের তল বোদের ভিতর দিয়ে বড়বড় করে চলে যায়। একদিন একটা বড় মাছ জালের মধ্যে পড়ল। আমি পানিতে লাফ দিলাম জালের পাশ চেপে দেয়ার জন্য, যেন বোদের ভিতর দিয়ে মাছ না চলে যায়।। কি যেন আমার বুকে সাজোরে পাঁজরে আঘাত করলো। মনে হল আমি পানিতে ডুবে যাচ্ছি, আর ওপরে উঠতে পারবো না। কোনোমতে পানির উপরে উঠলাম। রাতের বেলা হলেও আমার সহযাত্রীরা সতর্ক ছিল; আমাকে টেনে পানির উপরে নৌকায় উঠালো। এতো গেল রাতের কথা।দিনে মৌমাছির চাক ভাঙার অভিযান চলে। সে সময়ে মাঠে অনেক পুরানো লম্বা খেজুর গাছ ছিল। এসব গাছে কোনো কোনোটার নিচে দিকে স্থানীয় ভাষায় খোঁড়ল বা সুড়ঙ্গ থাকতো। এই খোড়লে মৌমাছি চাক বানাতো। আমরা সেগুলো ভেঙে বেশ সাহস ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। এখন বড় কিছু করা দরকার। একদিন আমাদের ঠাকুরবাড়ির মাঠে ১৬ সালের ঝড়ে বাকা হওয়ায় একটা কাঁঠাল গাছের সুড়ঙ্গে মৌচাকের সন্ধান পাওয়া গেল। মৌমাছির উড়াউড়ি দেখে এগুলো সহজে শনাক্ত করা যেত। ভাঙ্গার জন্য আমার চাচাতো ভাই রেজাউল করিম স্বপন গাছে উঠে যায়। গাছে উঠে একটা লাঠি দিয়ে খোড়লের মধ্যে গুতা দিল। আমরা আগে থেকেই সতর্ক ছিলাম কারণ এসব গর্তের সাপ থাকে। সেজন্যই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া। গুতা দিতেই একটি গোখরা সাপ ফনা ধরল। সাথে সাথে গাছ থেকে নিচে লাফ দিয়ে পড়লো।
এগুলো বিপদজনক, অভিজ্ঞতা থেকে শিখলাম এই সময়গুলো সঠিক কাজে ব্যয় করা যায়। এরপর যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হলাম তখন এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে পরীক্ষার ফলবের করার একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দিলাম। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ হওয়া এবংফলবের হওয়ার মধ্যবর্তী সময় প্রশিক্ষণ বা অন্যকিছুর পরিকল্পনা করতে পারেন।
এখন পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আমি শুরু করেছিলাম এর অনেক উন্নতি করার অবকাশ আছে। পরীক্ষার ফল এবং কলেজে ভর্তি ফলাফল একসাথে প্রকাশ করা সম্ভব। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভর্তি সিস্টেম করার পর ফল প্রকাশ এবং ক্লাস শুরুর মাঝে অনেক লম্বা সময় অতিবাহিত করতে হবে না। যে সংক্ষিপ্ত সময় পাওয়া যাবে সেটাও ভালো কাজে ব্যয় করা সম্ভব। যেমন ১) computer training. ২. spoken english. ৩.সাতার শেখা। ৪. গান শেখা। ৪. সেমিনারে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
আমার স্বপ্ন ছিল পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সকল পরীক্ষার্থীর কাছে কলেজে ভর্তির আবেদন চাওয়া হবে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এ ভর্তির আবেদনের তথ্যগুলো ফলাফলের সাথে মার্জ হবে। পরীক্ষার ফল ও কলেজে ভর্তির ফলাফল একসাথে প্রকাশ করতে হবে। কঠিন নয়, কাজ খুবই সহজ এবং সম্ভব। কে আছেন আমার স্বপ্ন পূরণ করবেন।
এগুলো বিপদজনক, অভিজ্ঞতা থেকে শিখলাম এই সময়গুলো সঠিক কাজে ব্যয় করা যায়। এরপর যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হলাম তখন এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে পরীক্ষার ফলবের করার একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দিলাম। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ হওয়া এবংফলবের হওয়ার মধ্যবর্তী সময় প্রশিক্ষণ বা অন্যকিছুর পরিকল্পনা করতে পারেন।
এখন পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আমি শুরু করেছিলাম এর অনেক উন্নতি করার অবকাশ আছে। পরীক্ষার ফল এবং কলেজে ভর্তি ফলাফল একসাথে প্রকাশ করা সম্ভব। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভর্তি সিস্টেম করার পর ফল প্রকাশ এবং ক্লাস শুরুর মাঝে অনেক লম্বা সময় অতিবাহিত করতে হবে না। যে সংক্ষিপ্ত সময় পাওয়া যাবে সেটাও ভালো কাজে ব্যয় করা সম্ভব। যেমন ১) computer training. ২. spoken english. ৩.সাতার শেখা। ৪. গান শেখা। ৪. সেমিনারে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
আমার স্বপ্ন ছিল পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সকল পরীক্ষার্থীর কাছে কলেজে ভর্তির আবেদন চাওয়া হবে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এ ভর্তির আবেদনের তথ্যগুলো ফলাফলের সাথে মার্জ হবে। পরীক্ষার ফল ও কলেজে ভর্তির ফলাফল একসাথে প্রকাশ করতে হবে। কঠিন নয়, কাজ খুবই সহজ এবং সম্ভব। কে আছেন আমার স্বপ্ন পূরণ করবেন।


