মানুষের উৎপত্তি আফ্রিকার, সেখান থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্য এশিয়ায় মানুষ এসেছে এবং সভ্যতার সৃষ্টি করেছেন। মেসোপটেমিয়া যেমন দুই নদীর মাঝে মধ্য এশিয়ায় তেমনি আমুদরিয়া ও সির দরিয়ার মাঝে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। তখন এ অঞ্চলের নাম ছিল সুগদ Sughd. খ্রিস্টপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় সহস্রাব্দে এই অঞ্চলে ইরানীয় সিথিয়ান মানুষদের বসবাস ছিল। সাইরাস দি গ্রেট এর সাম্রাজ্য এ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরপর মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য দখল করে এ অঞ্চল পর্যন্ত আসেন এবং এখানে একটি শহর গড়ে তোলেন তার নাম আলেকজান্ডান্দ্রিয়া এস্চেট অর্থাৎ প্রান্তের আলেকজান্দ্রিয়া।
এরপর সাইবেরিয়া এলাকার বর্তমানের রাশিয়ার সখা প্রদেশের ইয়াকুতিয়া এলাকা থেকে বৈকাল বা বিকুল হ্রদ এলাকা হয়ে আদি তুর্কি যাযাবর হুন মানুষেরা এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং মঙ্গোলিয়া এলাকা হতে চিনাদের মতো দেখতে মানুষ এই অঞ্চলে আসে। এসব মানুষের উৎপাতে চীনের প্রাচীর করতে হয়েছিল। এদেরকে শায়েস্তা করার জন্য চীনারা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে। কালক্রমে এখানকার মানুষ ইরানীয় থেকে তুর্কি মঙ্গল গ্রিক ও ইরানী সংমিশ্রণে নতুন চেহারার মানুষের উৎপত্তি হয়েছে। এদের সংস্কৃতি সভ্য স্থায়ী বসবাসকারী ইরানিদের সংস্কৃতি হলেও যাযাবরদের অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত হয়ে নতুন সভ্যতার উদ্ভব হয়েছে। আঠারো শতক পর্যন্ত সির দরিয়ার উত্তরের মানুষ যাযাবর জীবন যাপন করতো আর দক্ষিণে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতো।
চীনের সাম্রাজ্য এ অঞ্চল দখল করে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত শাসন করতো। 751 খ্রিস্টাব্দে কোথায় বা ইবনে মুসলিম এর নেতৃত্বে আব্বাসীয় সেনাদল জেনারেল গাও এর নেতৃত্বে চীনাদের পরাজিত ও বিতাড়িত করে। তবে গড়ে ওঠে তুর্কি কারাখানের বিশাল সাম্রাজ্য বোগরা খানের নেতৃত্বে এদের সকলেই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। এরপর আসে কারলুক ইরান এবং মধ্য এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। সুলতান মোহাম্মদ-২ এর আমলে বারোশো উনিশ থেকে চেঙ্গিস খাঁর সেনাবাহিনীর আক্রমনে এই সাম্রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ভাগ্যের এমনই পরিহাস এই খানেরা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিলীন হয়ে গেলেও এদের রক্ত এ অঞ্চলের মানুষের ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যাপকভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো এবং বৈবাহিক সুত্রে একীভূত হওয়ায় এদের চেহারায় চিনাভাব কিন্তু দেখে ইরানি গড়ন।
এরপর এসেছে তিমুর সেও মঙ্গলদের সংমিশ্রণ তুর্কি, আসলো সায়েবানি সেও সংমিশ্রিত তুর্কি। রাশিয়ান জার ১৮৬৪ থেকে একে একে অভিযান চালিয়ে এ অঞ্চল দখল করে নেয়। ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি নেওয়ায় আফ্রিকার মত বিভিন্ন জাতের বিভেদ সৃষ্টি হয় তৈরি হয় কিরঘিজ, কাজাক, উজবেক, তাজিক, তুর্কমেন কিন্তু এরা সংস্কৃতিতে ইরানি কৌলিতত্ত্বে সংমিশ্রিত উনিশ আর বিশ।
তারাজ আঞ্চলিক জাদুঘরে এর সবই পাবেন তবে নিজেকে বুঝে নিতে হবে। রাশিয়ান ভাষায় লেবেলিং করা, ইংরেজির বালাই নেই। তাই আপনার আমার জন্য বোঝার অসুবিধা। কিন্তু আগেই যদি ভালো করে ইতিহাস সংস্কৃতি এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে পড়াশোনা করে আসেন তবে বুঝতে অসুবিধা হবে না।




Amazing presentation sir. As I mentioned in my earlier comment that you are really a blessing for our Country Bangladesh. I am speechless to appreciate your style, art and purity of Bengali Language. How have you managed this historic pictures and how have you managed time to make such a lovely, lucid and mind blowing presentation. Salute sir. That’s all.