অন্যদেশের সবকিছুই সুন্দর মনে হতে পারে। দেশের সব কিছুই খারাপ মনে হতে পারে। হয়তো সঠিক; অনেক দেশের অনেক জিনিসই সুন্দর।
যুক্তরাজ্যে চোর পুলিশ নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যাক। কদিন আগে দেখলাম ম্যাকডোনাল্ডসে হেজাব পরা একজন মহিলাকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে স্থানীয় বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে হিজাব খুললে ঢুকতে কোনো বাধা নেই।
মোটরসাইকেল আরোহীদের মুখোশ পরে চালাতে দেখলাম। যুক্তি আছে শীতের দেশ তাই মোটরসাইকেলের চোখ ছাড়া সব ঢেকে চালাতে হয়। হিজাব পরে মোটর সাইকেল চালালে হয়তো বাঁধা থাকত না। এদের গতি কম, তারওপর মুসলিম সংস্কৃতি। এদের ছাড়াও ইউরোপের সব দেশে খ্রিস্টান সংস্কৃতি। এখানেই বিপত্তি কি না দেখা যাক।
গতকাল ১৬ ডিসেম্বর কার্ডিফে এক মোটর সাইকেলে দুজন আরোহী হঠাৎ করে বিপজ্জনকভাবে আমাদের সামনে একটা গাড়ির সামনে দিয়ে পাক দিয়ে দিয়ে উল্টা দিকে ফুটপাতের উপর দিয়ে চালিয়ে গেল। গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে বসা নিউপোর্টের হারুন ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম এটা কি হলো? সেই সাথে সাথে জানালে পুলিশ থাকলে এদেরকে ধরে ফেলত। তখনই লন্ডনের মেজবাহ সাদাত ভাইয়ের বাড়ির সামনে পড়ে থাকা তার শ্যালকের মোটরসাইকেলের একটি কাহিনী মনে পড়ে গেল।
ঘটনাটা এরকম। মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে আছে। ঘরের ভিতরে ঢুকে একটা কিছু নিয়ে কয়েক মিনিটেই আবার মোটরসাইকেল করে কাজে যাবে। হঠাৎ করে দুজন মুখোশ পরা মানুষ এসে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়েই ভোঁদৌড়। ধারে কাছে দৃষ্টিসীমায় পুলিশ ছিল তাদেরকে বলা হল। পুলিশ পিছু নিল কিন্তু দূর থেকে, কাছ থেকে ধাওয়া করার আইন নেই কারণ আতঙ্কিত আতঙ্কিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে; জীবনহানি হতে পারে। এভাবে সারা বিকেল ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলল।
উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা এই সুযোগ নেয়। তারা একটা গলির ভিতরে ঢুকে গেল যেখানে গাড়ি ঢোকে না। মোটর সাইকেল ফেলে দিয়ে চাবি নিয়ে চলে গেল। পুলিশের যেন কিছুই করার নেই। জিজ্ঞাসা করলাম ফটো তুলতে দোষ কিসে। উত্তর এলো, মুখোশ পরা তাই ফটো তুলে লাভ কী?
আমাদের দেশের পুলিশ এদেরকে ধরে ফেলত। আইনের হাতে সোপর্দ করত। তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু বেরিয়ে পড়তো। কেউ হয়তো বলবে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু সবাই কি এভাবে ছাড়িয়ে যেতে পারে?




