
বুরানা মিনার Burana Tower
বুরানা মিনার Burana tower: খিরঘিস্তান
বিশকেক থেকে ‘চলপন আতা’ যেতে ৬০ কিলোমিটার পূর্বদিকে ছোট্ট শহর তকমক Tomoko. সেখান থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে চুই উপত্যকায় বুরানা গ্রামে নবম শতাব্দীতে কারাখানিদ শাসকদের তৈরি ইটের টাওয়ার। তৈরীর সময় এর উচ্চতা ৪৫ মি. হলেও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৪ মিটার অবশিষ্ট আছে। এটি মসজিদের মিনার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিলো। সাথে লাগোয়া মাদ্রাসা ছিলো। মিনারের ভিতর দিয়ে খাড়া সিঁড়ি দিয়ে মাথায় উঠে প্রতিদিন পাঁচবার মুয়াজ্জিন আজান দিতো। এখানে এখন প্রতিদিন সকল ধর্মের মানুষ বহু উঠে।

মিনারের ভিতরের সিড়ি
আমি এর ভিতর রেলিংছাড়া খাড়া সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ উঠে আর সাহস পেলাম না। কিন্তু আমার বয়সের ইউরোপিয়ান উঠে গেল।
এই ধ্বংসস্তুপ কারাখানিদদের রাজধানী বালাসাগুন। মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে কারাখানেরা আবার কা’রা। কারা অর্থ color black, আবার কারা অর্থ সাহসী Khanit অর্থ সম্রাট বা শাসনকর্তা, এখন বুঝছেন কারাখান মানে কি? আমরা আমাদের ভাষায় রাজা সম্রাট অনেক কিছুই বলি তারা তাদের ভাষায় ওটাই বলতো।

কারাখানিদ খানদের প্রাসাদের ধ্বংসস্তুপ
পাহাড়ের মত স্তুপটি কারাখানিদদের প্রাসাদ। প্রাসাদ প্রাচীর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বাধের মত মাটির বেস্টনীতে রূপান্তরিত। পাশের ছোট সাজানো গোছানো মিউজিয়াম। মিউজিয়ামে ঢোকার আগে সংক্ষিপ্ত সচিত্র ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে দেয়া আছে। এগুলো পড়ার পর মিউজিয়ামে ঢুকলে বোঝা সহজ হয়।

বালাসাগুনে ইন-সিটু মিউজিয়ম
মঙ্গোলরা এই শহরকে Gobalik বা সুন্দর শহর Pretty City বললেও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি, ১২১৮ সালে তাঁরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এখন এটি ছোট্ট গ্রাম ‘বুরানা’ অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া ছেলে। মঙ্গলরা শুধু কোন শহরই ধ্বংস করত না, কারিগর ছাড়া এর সকল অধিবাসীকে হত্যা করত। বালাসগুণের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিলো, যেহেতু শহর ধ্বংসস্তুপ তাই গ্রাম থেকে পরবর্তীতে মানুষ এসে বসতি স্থাপন করে। এটি মঙ্গোলদের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রায় সকল শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু বালাসাগুন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।
নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে যুদ্ধ বিজয় স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হতো। যেমনটা দিল্লির কুতুবমিনার, আফগানিস্তানে গোর প্রদেশের জাম মিনার কিংবা মধ্যপ্রদেশের দৌলতাবাদের চাঁদ মিনার।
কারখানিদরা মূলত turkic, এখনো খিরগিস্থান (কিরঘিজস্তান) টার্কিস দেশ। এই মিনার মসজিদের, মসজিদের অস্তিত্ব বিলীন। পাশে মাদ্রাসা, তারও কোন চিহ্ন নেই। ৩০ লক্ষ বর্গমাইলের শাসকের প্রাসাদ এখন শুধু উঁচু পাহাড়েরমত মাটির ঢিবি। ডিবিতে খননের খাদ থাকলেও ইটের আলামত নেই। জানা যায় সোভিয়েত আমলে এখানে বসতি স্থাপনকারীরা ইট নিয়ে গেছে। এখন সরকার নজর দিয়েছে, ইউনেস্কো হেরিটেজ, ইন-সিটু মিউজিয়াম করা হয়েছে। আমরা ছাড়াও অনেক মানুষ এসেছে। সুদুর ইজরায়েল থেকে পোলান্ডে জন্ম ইহুদি ধর্মের মানুষ লুদমিলা এসেছে।

লুদমিলা, ইজরায়েল
তেল আবিব বলতে কিছু উচ্চস্বরে আমাদেরকে সম্ভবত মুসলমানভেবে জেরুজালেম বললো। ইতিহাসের সাক্ষ্যর সামনে দাড়িয়ে পরিণতি অস্বীকার। হেটেলে আরব দম্পতির সাক্ষাৎ পেলেও কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে এগিয়ে এসে বলার মত কাউকে চোখে পড়লো না “তোমরা দখলদার”।




