ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কাজ করছি। একদিন বোর্ড মিটিং হচ্ছে, কুকুর মারা সম্পর্কে একটি এজেন্ডা ছিল। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বোর্ডের তরফে কুকুর মারা হয়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কুকুর এসে মৃতদের স্থান দখল করে নেয়। তাই কুকুর মারা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডর চলমান দায়িত্ব। সাধারনত কুকুর ধরে হৃদপিণ্ড বন্ধ করার ইঞ্জেকশান দিয়ে মারা হয়। কুকুর ধরা সহজ সাধ্য কাজ নয়। যারা কুকুর মারে তাদেরকে দেখলেই কুকুর শতগজ দূরে থাকে। শুধু তাই না আমি লক্ষ্য করেছি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মানুষগুলোর থেকে তারা সরে থাকে। বোর্ডে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হল। কিভাবে কুকুরের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে স্টেশন কমান্ডার বললেন। তিনি আমাকে ব্যঙ্গ করার জন্য বললেন সিইও সাহেব কুকুর গুলোকে ধরে ভ্যাসেকটমি করে দেন না কেন? আপনি বিজ্ঞানের লোক আপনি এই কাজটা করেন। আমি উদ্ভিদবিজ্ঞানে পড়েছি, প্রাণিবিজ্ঞানে না। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটারিনারী ও এনিমেল হাজবেন্ড্রিতে পড়িনি। অপরদিকে আমাদের একজন সদস্য মিলিটারি ফার্ম সিও ব্রিগেডিয়ার মাহবুব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্টেশন কমান্ডারের ছোড়া কাদানে গ্যাসের শেল আমি হাতে তুলে নিলাম। আমি বললাম স্যার এই বিষয়ে পড়াশোনা করিনি, মাহবুব স্যার পড়াশোনা করেছেন। হাতেকলমে গরু-ছাগলের ভ্যসেকটমি করেছেন উনি এই দায়িত্বটা সুচারুভাবে পালন করতে পারবেন। ব্রিগেডিয়ার মাহবুব স্টেশন কমান্ডারের চেয়ে সিনিয়র। আর যাই কোথায়, উনি বললেন আমাকে অপমান করা হচ্ছে। আমি আর বোর্ড মিটিংয়ে আসবো না। আমি বললাম স্যার আমি টেকনিক্যাল কথা বলেছি। তিনি বললেন সিইও সিভিলিয়ান, সে বুদ্ধিমান তাই স্টেশন কমান্ডারের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ধরে আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে।
Share this post

