২০০৭ সাল, দাপটের সাথে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ম্যাট কোর্সে প্রশিক্ষণের ডাক পড়ল। আন্তর্জাতিক হোস্টেলে থাকতে হবে। প্রতি কক্ষে দুইজনের সিট। আমার সাথে ছিট পড়লো ——–সাহেবের উনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ছিলেন। আর আমি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব ছিলাম। উনি এসে কক্ষে উঁকি দিয়ে আমাকে দেখে সোজা দ্রুত কোন কথা না বলে চলে গেলেন। আর ফিরে আসেনি। শেষমেষ অন্য কক্ষে ঠাঁই নিয়েছেন। এরপর আরেকজনকে আমার কক্ষে বরাদ্দ দেয়া হলো। সে উকি দিয়ে পালিয়ে গেল। তার কথা পরে বলব।
কিন্তু গোল বাধল সিঙ্গাপুরে স্টাডি ট্যুরে। কর্তৃপক্ষ নিয়ম করেছে একরুমে দুইজন থাকতে হবে। হোটেলে একা থাকলে অনেক বেশি টাকা গুনতে হবে। যে টাকার সরকার থেকে দিয়েছে তা দিয়ে তো হবে না উপরন্তু সম পরিমাণ ডলার আমাকে দিতে হবে। এর আগে বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব ছিলাম। শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী মন্ত্রীর সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একান্ত সচিব হিসাবে মন্ত্রীর একান্ত সচিবের সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা।। অনেকদিন যাবৎ গাড়ী দিতে পারেনি। কিন্তু গাড়ি আছে তো ড্রাইভার নাই। ড্রাইভার যখন দিল সে তখন আনকোরা নতুন। বিরোধীদলীয় নেত্রীর সাথে বিদেশ ভ্রমণে ভ্রমণ ভাতা দেয় না। পকেট হাল্কা।
কিন্তু কেউই আমার সাথে থাকতে রাজি হলো না। রাত তিনটায় এসেছি সকাল ৮ টা বেড়ে গেছে।
এমন সময় সিতাংশু বাবু আসলেন আমাকে ডেকে বললেন আসেন আমরা এক রুমে থাকবো। আমি বললাম আপনার কোন অসুবিধা হবে না তো? উনি বললেন আমি কেয়ার করি না।
ধানমন্ডী ৩২ এর বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে কাজ শেষে লেকের পাড় দিয়ে হেটে বাড়ী যাওয়ার পথে হঠাৎ দেখা হলো সিতাংশু সেন এর সাথে। স্মৃতিচারণ করলাম সেই দ্বিতীয় হবু রুম মেট যিনি উকি দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এখন একটা মন্ত্রণালয়েক সচিব সাহেব ওনাকে আমি চাকরিতে ঢোকার সময় থেকে চিনি। ইতোমধ্যে একটা ভালো কাজের পরামর্শ দেয়ার জন্য উনার সাথে একজন দেখা করতে চান। উনি নাকি কাউকে পাত্তা দেন না কারণ শেখ কামালের শ্যালক। তাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে বললেন। আরো বললেন উনি তো অমুকের শ্যালক তাই আপনার কথা শুনবে। আমি গাছ থেকে পড়লাম। পরক্ষণে ভাবলাম সচিব হয়েছে নিশ্চই কোথাও গিঁট দিয়ে সম্পর্ক বের
আমাদের কক্ষে দূরের কথা বাইরের অবসর সময়ে কেউ মেলামেশা করতো না। দুই জনই বের হতাম। দু-একজন রাত্রে একটু বেশি রাতে আসতো যদি ভবিষ্যতে কোন কাজে লাগে। কখনো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তবে যদি কাজে লাগে।
সিতাংশু দাদা অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গেছেন। কোন চুক্তিতে নেই।

