মানুষের জীবন ৭০/৮০ বছরের বড় জোর এক’শ বছর। মানব জীবনের ইতিহাস লক্ষ লক্ষ বছরের। পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা সাত শত কোটি। লক্ষ লক্ষ বছরের কোটি কোটি মানুষের জ্ঞান বইয়ের মধ্যে সঞ্চিত থাকে। একসময়ের গুহাচিত্রের বই থেকে আজকের ইলেকট্রনিক বইয়ে রূপান্তরিত হাওয়ায় লেখাপড়া অনেক সহজ হয়েছে। অল্প সময়ে, অল্প আয়াসে অনেক বেশি শেখার সুযোগ হয়েছে। এক সময় মানুষকে বই এর কাছে যেতে হতো, এরপর বইকে মানুষের কাছে আসতে বাধ্য করেছে। আবিষ্কার মানুষের জ্ঞানের অগ্রগতির এক বিশাল ধাপ।। পৃথিবীতে colony স্থাপন করে মানুষ মানুষকে শোষণ করেছে আবার এর মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তারে পৃথিবীর মানুষ ব্যাপকভাবে এগিয়েছে। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা রূপে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষের সম্পদ বেড়েছে, বই সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতরে এসেছে। যে বই একসাথে একজনের বেশি পড়া যেত না তা এখন প্রযুক্তির সুবাদে একসাথে কোটি কোটি মানুষ পড়তে পারে। যে পরিবর্তন হোক না কেন, জ্ঞান অর্জন যতই কঠিন হোক না কেন মানুষ নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাকেও জীবনের তাগিদে, বড় হওয়ার তাগিদ, মায়ের তাগিদে একই পথ মাড়াতে হয়েছিল। তবে হয়তবা ভিন্ন যানবাহনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের পড়ার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন রকমের ছিল। আমরা গ্রুপে পড়াশোনা করতাম। মাজহারুল ইসলাম যে এখন conservator of forest, অরবিন্দ যে ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার অফিসার, আব্দুল মজিদ যে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে অবসরে গেছে, বায়েজিদ হোসেন যে সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অবসরে গেছেন আরো অনেকে এক গ্রুপে পড়াশোনা করতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে গ্রুপে পড়াশোনা করার বিষয়টা এই প্রথম শিখলাম। স্কুল-কলেজে থাকাকালীন আমাদেরকে এ বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষক কোন ধারণা দেননি। বরং আড্ডা ভেবে নেতিবাচক ধারণা ছিল। এতকাল জেনেছি গ্রুপে শুধু গল্প-গুজব হয়। প্রচলিত প্রবাদ ছিল “এক-এ মিন মিন, দুই-এ পড়া, তিন-এ গোলমাল, চার-এ হাট”। চাকরি জীবনে এসে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আরশ শিখেছি এবং শিখিয়েছি। প্রথমে একটি দল গঠন করতে হয় যাকে আমরা Forming বলে থাকি। এরপর তর্ক-বিতর্ক আলাপ-আলোচনা করে দলের মধ্যে বোঝাপড়া সৃষ্টি করতে হয় যাকে Storming বলে থাকি। এরপর সবাই মিলে কিভাবে কাজ হবে কে কি করবে তা নির্ধারণ করে থাকি যাকে আমরা Norming বলে থাকি। এরপর দল কাজ করা শুরু করে যাকে আমরা Performing বলে থাকি। এরপর একসময় কাজ শেষ হয়ে যায় তখন দলকে ভেঙে দিতে হয় যাকে আমরা Adjorning বলে থাকি। কাজের ধরন, দক্ষতা যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী নতুন কাজের জন্য আবার নতুন ধরনের দল গঠন করতে হয়। এভাবেই চলতে থাকে।
পড়ার দ্বিতীয় অংশটা ক্লাসে সমাধা করতাম; ক্লাসে যেকোনো ধরনের প্রশ্ন করতাম। এখানে কোন লজ্জা করতাম না। না বুঝলে খোলামেলা বলতাম। সেদিন যেটা লেখাপড়া হবে আগে থেকে শিক্ষক ক্লাসে বলে যেতেন। পরদিন কি পড়া হবে সে বিষয়টি অবশ্য আমরা রুটিন থেকে জেনে আসছি। রুটিনে পরিবর্তন হলে তা জেনে নিতে হয়। তাই আমরা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে আসতাম। এটি ছিল আমার পড়াশোনার প্রথম অংশ। আমাদের মনোভাব এরকম ছিল যে পরদিন ক্লাসে প্রশ্ন করে স্যারকে হারাতে হবে। এখন মনে পড়লে কিছুটা লজ্জা পাই।
পরদিন কোন্ বিষয়ে ক্লাস হবে সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই তথ্যের উপর ক্লাসে প্রস্তুত হয়ে আসার বিষয়টি নির্ভর করে। এই অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তী জীবনে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাধ্যমিক এবং সবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছি তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সারাবছরের রুটিন করার উপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছি। যখন যেখানে গিয়েছি তখন এই বিষয়টির উপর জোর দিয়েছি। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি বেশিরভাগ স্কুলে সারা বছরের রুটিন করা হয়না। যদি পরবর্তী দিন কি পড়া হবে তা শিক্ষার্থীরা না জানলে কিভাবে প্রস্তুত হয়ে আসবে ? প্রস্তুত হয়ে না আসলে সেই শিক্ষার্থী কখনোই ক্লাসে সব কিছু বুঝতে পারবে না। ক্লাসের আগে পরে আসলে অনেক কিছুই বুঝতে পারবে, যে বিষয়গুলো বুঝতে পারবে না সেগুলো পরদিন ক্লাসে শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবে।
শিক্ষকদের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। যে কারণে অনেকে প্রশ্ন করার উৎসাহ পেত। বলা যেতে পারে ক্লাসে সবাই কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন সময়ে গ্রুপে সম্পৃক্ত হতো। তবে আমাদের ভেতরে একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা ছিল। এখন আমরা যেটাকে co-petition বলে জানি। তবে শব্দটা আমাদের সময় আবিষ্কার হয়নি। আমার শিক্ষা জীবনে এত সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ আর কখনই পাইনি। শিক্ষকদের অনেকেই পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ ছিল তাই তারা ছাত্রদের সাথে এত সহজ হতে পেরেছিলেন। কর্মজীবনে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে গিয়ে তা প্রত্যক্ষ করেছি। শিক্ষার্থী-শিক্ষক সোহর্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করে শেখার আগ্রহ তৈরি করার কৌশলের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হয়ে বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে প্রয়োগ করেছি।
লেখাপড়ার তৃতীয় অংশ আমরা লাইব্রেরীতে করতাম। বেশিরভাগ সময় আমাদের এখানে কাটত। লাইব্রেরীতে আমরা কয়েকজন একত্রে বসে একাধিক বই বের করে পড়াশোনা করতাম এবং আলোচনা করতাম। কিভাবে বই বের করতে হয় এই প্রথম পরিচিত হলাম। আমাদের স্কুল ও কলেজে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে বই খুঁজে বের করতে হয় তার শেখানো হয় না। ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হলে প্রথমেই সাধারণত এ সম্পর্কে পরিচিত করানো হয়। ইউরোপে পড়তে এসে এই বিষয়টি পূর্বে ব্যবহার করলেও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাত্ত্বিকভাবে প্রথম পরিচিত হয়েছি।
আমরা একজন একটা বই পড়লে অন্যদের সাথে আলোচনা করতাম। এটি আমাদের লেখাপড়ার চতুর্থ ধাপ। অনেকের ধারণা আলোচনা করলে অন্যরা তার চেয়ে বেশি শিখে ফেলবে। পরীক্ষার ফলাফলে হয়তো পিছনে পড়বে। এই প্রথম দেখলাম কোন বিষয়ে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হলে অন্যদের সাথে আলোচনা করেই তা করা সম্ভব। শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়ের সাথে হতে পারে কিন্তু সহপাঠীদের সাথে সময়ও পাওয়া যায় আবার খোলামেলা আলোচনা করা সম্ভব। এই প্রথম লক্ষ্য করলাম এক একজন এক এক ভাবে শেখে। এক একজন এক এক দিক থেকে চিন্তা করে। একই ক্লাসে, একই বিষয়ে, একই শিক্ষকের, একই আলোচনা বিভিন্ন শিক্ষার্থী ভিন্ন ভিন্ন জিনিস শেখে। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর তার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর করে। পরিবার, সমাজ, লেখাপড়ার বিষয়ে, বন্ধু বান্ধব, পারিপার্শ্বিকতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। এই শিক্ষাগুলো একাডেমির প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় ভালভাবে কাজে লাগিয়েছি। তাই প্রশিক্ষক হিসাবে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়নে প্রথম বা দ্বিতীয় ছাড়া তৃতীয় হয়েছি এমন উদাহরণ খুবই কম।
এভাবে আমরা লাইব্রেরীতে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সকল বই পড়ে ফেলেছিলাম। এরপর আমরা প্রাণিবিজ্ঞানের বই পড়া শুরু করেছিলাম জীবনের প্রথম অনুবাদ ছাড়া বিদেশি লেখকদের অনেক অনেক বই পড়েছি। লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করতে যেয়ে গ্রুপে পড়াশোনা করার উপযুক্ত কক্ষের অভাব দেখেছি। গ্রুপে আলোচনা করলে অন্যদের অসুবিধা হয়। তাই অন্য পাঠকের অসুবিধা সৃষ্টি না করে গ্রুপে পড়াশোনার জন্য পৃথক কক্ষের প্রয়োজন অনুভব করেছি।
এছাড়া আজকাল আইটির যুগ, অনলাইনে অনেক কিছু শেখা যায়। তাই লাইব্রেরীতে অনলাইনে পড়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। পরবর্তীকালে পশ্চিমা দেশ জার্মানিতে বেড়াতে গিয়ে লাইব্রেরীতে গ্রুপে পড়াশোনা করার আলাদা কক্ষ দেখেছি। বলাবাহুল্য আমি যখন বিদেশে গেছি তখনই সেদেশের মিউজিয়াম, লাইব্রেরী বা যে কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই সরকারের সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেছি। কখনো বচসা, কখনো উপহাস, কখনো উপেক্ষা আবার কখনো প্রশংসিত হয়েছি। তবে কোন কিছুই বৃথা যায়নি বচসা, উপেক্ষা বা উপহাস থেকেও শিখেছি; পরবর্তীতে আরও শক্তিশালীভাবে পরামর্শ দিয়েছি। তাই যখনই লাইব্রেরী সংস্কারের সুযোগ পেয়েছি তখনই তাদেরকে বলেছি গ্রুপে পড়ার আলাদা কক্ষ রাখতে। ক’দিন আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি design মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গণভবনে presentation দেখানো হচ্ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডাক দিলেন এবং দেখতে বললেন। আমি তাদেরকে গ্রুপ স্টাডির কক্ষসহ আরো কিছু সুপারিশ করেছি। লেখাপড়ায় ইনফ্রাস্টাকচার অন্তত শতকরা ২০ ভাগ effectiveness বাড়াতে পারে তা আমরা অনেক সময় উপেক্ষা করি। বিশেষভাবে নির্মিত কক্ষ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রন, বাইরের শোরগোল মুক্ত এলাকা, শব্দ, ধুলাবালি, নির্মল পরিবেশ আমাদের শিক্ষার মান এবং পরিমাণ উভয় ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
যার যার বিষয়ের বই পড়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না। সমাজ পরিবেশ রাজনীতি-অর্থনীতি সাময়িক অবস্থান আইনশৃংখলা স্বশাসন ইত্যাদি সম্পর্কে আপ-টু-ডেট থাকার প্রয়োজন হয়। একমাত্র খবরের কাগজের মাধ্যমে তা পাওয়া সম্ভব। এখনকার মতো সকালে খবরের কাগজ পড়ার সুযোগ হতো না। এরপর আমরা বিকালে খবরের কাগজ পড়তে যেতাম। এক জায়গায় সকল খবরের কাগজ পাওয়া যেত না। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন খবরের কাগজ থাকতো। সেগুলো পড়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো। হলে কিছু কাগজ থাকতো কিন্তু সংখ্যায় কম। বিভিন্ন ধরনের কাগজ পড়লে একটা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ধারণা হতো। তাই আমরা যতদূর সম্ভব বেশি খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন পড়ার চেষ্টা করতাম। আমরা দল বেঁধে এ কাজ করতাম, তারপর কোথাও মাঠে একসাথে বসলাম। লেখাপড়া নিয়ে আলোচনা করতাম। দেশ-বিদেশের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতাম। আমাদের ধারণা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যেত। কেউ-না-কেউ সুন্দরভাবে বিষয়টি বুঝতে পারতেন। যার যেখানে অস্পষ্টতা ছিল তা পরিস্কার হয়ে যেত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের ধরনের শিক্ষার্থী ছিল যারা ক্লাসে কম উপস্থিত থাকত। বছরের বেশিরভাগ সময় বাড়িতে বা অন্য কোথাও কাটাতো। পরীক্ষার আগে হলে এসে গলায় মাফলার দিয়ে গরম পানির কুলকুচি করে, নোট সংগ্রহ করে রাতে-দিনে পড়াশুনো করতো। পরীক্ষা শেষে তাদেরকে কমপ্লেইন করতে শুনেছি তার ব্রেন বিট্টে করেছে তাই পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। তাদের কাছ থেকে এ গবেষণার পর এ সমস্যা মোকাবেলা করতে পথ বের করেছি।
আমরা জানি কোন উত্তর লিখতে হলে ধারাবাহিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষার জন্য আমি শুধু একই হেডলাইন এর অধীনে অনেকগুলো বিষয় থাকে সেগুলো মনে রাখতাম। হেডলাইনের অধীনের বিষয়গুলো আমি নিজে চিন্তা করে লিখতাম। আমার প্রশ্নউত্তর লেখা একটু ভিন্নতর হত।
জ্ঞানের ধারাবাহিকতায় একটি বিষয়। ধারাবাহিকতা জানা থাকলে চিন্তা করে অনেক কিছু লেখা সম্ভব। আমি নিজে একটা কাজ করতাম, অনেকে হয়তো সেটা করত না। অনেক কঠিন বিষয় বা শব্দ ছিল মনে রাখা সম্ভব হতো না। সেগুলো কাগজে টুকে নিয়ে পকেটে রাখতাম। গাড়িতে বাসে বা অন্য কোন সময় পকেট থেকে বের করে মনে করার চেষ্টা করতাম। তাই এখনো হাজার হাজার গাছের বৈজ্ঞানিক নাম আমার মনে আছে। এখনো অনেককে আমি এ বিষয়টিতে সারপ্রাইজ দিই। অনেকে আমাকে জিনিয়াস মনে করে। কিন্তু আমি অন্যের সাথে তুলনা করে দেখেছি। আমি অনেকের চেয়ে অনেক বিষয়ের জ্ঞানে অনঅগ্রসর। সারাজীবন রাজনীতিবিদদের সংস্পর্শে থেকেছি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে আমি রাজনৈতিক আচরণে একেবারে শিশু। অবশ্য যদি ধরে নেই জ্ঞান আহরণে আর শিক্ষা আচরণে। আসলে শিক্ষার্জন টেকনিকও বটে। Technique আয়ত্ত করতে পারলে অল্প পরিশ্রমে বেশি শেখা যায়। ব্যক্তি বিশেষে একই বিষয়ে টেকনিক ভিন্নতর হতে পারে।
আমাদের শেখার আরেকটি পর্ব আবাসিক হল। আমার রুমমেট geology and mining বিষয়ের, তার কাছে আমি এ বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি স্থান, বসবাসের স্থান এভাবে প্রতিটি মুহূর্ত শেখা শেখানোর জন্য ব্যবহার করেছি। ফল পেয়েছি, পরবর্তী জীবনে আরও শেখার জন্য প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করেছে।
শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা এই তিনে মিলে মানুষের জ্ঞানের পরিপূর্ণতা আসে। শিক্ষাজীবন শেষে বাকি দুটি অংশ অনেকটা অনাবিষ্কৃত থেকে যায়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, এম এস সি তে Thesis বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে মনে করেছিলাম অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু চাকরিতে ঢোকার পর ভাবিদের সাথে আলাপ করে দেখলাম অনেক কিছুই জানিনা। ভাবিদের অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে আমার বাস্তব জীবনের শিক্ষা শেষে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। বনসাই তার অন্যতম।
কর্মজীবনে এসে আবিস্কার করলাম কি পড়তে হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে শেখার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশের ওপর বাকিটুকু অনেকটা নির্ভরশীল। অনেক নেশাই হয়ে গিয়েছিল আমার পছন্দের বিষয়ের সর্বশেষ বেস্ট সেলার বই কোনটি? আমাকে তা সংগ্রহ করতে হবে। পড়তে হবে। তাই নামকরা airlines যেমন emirates এর বিজনেস, ফার্স্ট ক্লাসে চড়ার জন্য আগ্রহী থাকতাম সেখানে ব্রাউজ করে সর্বশেষ প্রকাশিত বইয়ের সংক্ষিপ্তসার পেতাম। কিন্তু এ অনেক পরের কথা কারন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার আসার আগে এই সুযোগ ছিল না। অতিরিক্ত সচিব এর ভিন্ন পদস্থ কেউ বিজনেস ক্লাসে চড়ার untitled না। উনি বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালীন আমি একান্ত সচিব ছিলাম। আমি তখনও উপসচিব, বিজনেস ক্লাসে ক্লাসে চড়ার জন্য entitled না। কিন্তু airlines কর্তৃপক্ষ খালি থাকলে economy ক্লাস থেকে বিজনেস ক্লাসে upgrade করে দিতো। বড় হতে হলে অন্যের সাহায্য লাগে আমার জন্য কোন ব্যতিক্রম ছিল না। এরপর থেকে যখনই বিদেশে গেছি এয়ারপোর্টে বুকস্টলে, Waterstones, Barnes noble এর মত বিখ্যাত book shop এ বই পছন্দ করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছি।



