ধরুন নুরুল ইসলামের ঘটকের কথা। নিজে একটা বিয়ে করলেও শত শত বিয়ে দিয়েছেন। এই বিয়ে দিয়ে তিনি মহা সুখী। কাউকে কাছে পেলে সেটা বলতে কালক্ষেপণ করেন না। তাই নিজে না করলেও অন্যকে করিয়ে সুখী। আবার মশ্বিমনগর এর খান পাড়ার মহসিন কাউকে বিয়ে করাননি কিন্তু নিজে ১৫টা বিয়ে করেছেন। বয়স চল্লিশের কোঠায় তাই এখনও আরো সম্ভাবনা আছে। বিয়ের কয় দিন ভালো ভালো খেতে পারেন। নতুন নতুন জামা-কাপড় পান। নতুন জামাইয়ের আদর তো আলাদা। প্রতিবার নতুন বউ পাওয়ার উপরি আনন্দ। একবার যে এ লাইনে গেছে সে মানুষখেকো বাঘের মত। একটার পর একটা বিয়ে করে চলেছে।
সবাইবাল্যবিবাহ নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। কিন্তু নেশাখোর বহুবিবাহ নিয়ে কাউকে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে না। নামিদামি অনেকেই বহু বিবাহ করার পরেও সেলিব্রেটি। শেরেবাংলা সরোয়ারদি হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে কে বহু বিবাহ করেনি? কেউ কেউ real বহুবিবাহ না করলেও virtually করেছেন। কাঁথা ধরে টান দিয়েছেন, কিংবা বাসে চেপে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। এরা সবাই সুখী, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। সর্বদা নতুন শিকারের সন্ধানে থাকেন। তাই তাদের মাঝে একটা আশার আলো আছে।
মানুষ বাদ দিয়ে পণ্যের দিকে তাকানো যাক। কেউ বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটিকে কেনেন সেটি দেখে অন্যরা মনে মনে ভাবেন এই লোকটি কত সুখি। আসলে হয়তো ওই মাছটি তিনি তার নিজের জন্য কিনছেন না। অন্য কারো দেয়ার জন্য কিনছেন। তার মনের সাধ আহ্লাদ যদি নিজে মাছটি খেতে পারতেন বা বৌ-বাচ্চাদের খাওয়াতে পারতেন তবে খুশি হতেন। কিন্তু উপায় নেই, অন্য জরুরি কাজ উদ্ধারের জন্য তাকে এই মাছটি দিয়ে খুশি করতে, কাজ উদ্ধার করতে হবে। যারা কাজওয়ালা এবং খানেওয়ালা তারাই খাচ্ছে। তাই মনে সুখ নেই বরং কষ্ট। বাইরে থেকে যাই মনে হোক না কেন খাইয়ে সুখী হচ্ছেন না। খেতে না পারার জন্য অসুখী, আবার ক্ষমতাবানদের খাওয়ানোর জন্যও খাইয়ে অসুখী।






