
আমি এক রাতের ভেতর মন্ত্রী থেকে কয়েদি তে পরিণত হয়েছি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার বিষয় কারো অজানা নয়। যদিও এক জেলখানা থেকে আরেক জেলখানায় হস্তান্তর করে শারীরিক কষ্ট দেওয়ার বিষয়টি ততো পরিচিত নয়। জেলখানার অভ্যন্তরে নুন্যতম সুযোগ সুবিধা না দিয়ে ও কষ্ট দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ৫ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে আরমানিটোলা ময়দানে অল পার্টি স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ কমিটি অফ একশন আয়োজিত এক সভায় বলেছেন ” কারাভ্যন্তরে সাধারণ অপরাধীদের সুযোগ সুবিধা এবং তাদের প্রতি আচরণ নিরাপত্তা বন্দীদের চেয়ে ভালো”। অধিকাংশ মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। যদিও সরকার তার মনোনীত বিচারক দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করেছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর মা গুরুতর অসুস্থ হলে প্যারোলে তাকে দেখার অনুমতি প্রার্থনা করা হলে আদালত প্রথমে সায় দেয়নি সামরিক কর্তৃপক্ষের মনোভাব বুঝে অনুমতি দেওয়া হয়। অপরপক্ষে, একটার পর একটা মামলা দিয়ে এবং মনোনীত বিচারক দিয়ে বিচার করিয়ে সাজা দেওয়ার বিষয়টিও বুঝতে অসুবিধা হয় না। সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য সরকার সমর্থক চিঠি লিখে “জেইল বার্ড” বলে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টাও করেছে।
মামলার ইতিহাসে যাওয়া যাক-১৯৩৮ সালের মার্চ কিংবা এপ্রিল মাসে গোপালগঞ্জের ঘটনা। বঙ্গবন্ধুকে একব্যক্তি জানালেন মালেক নামের একজনকে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে আনার অনুরোধ করা হলো। রওনা হলেন আটকস্থলে। তাকে ছেড়ে দিতে বললেন কিন্তু উল্টো তাকে গালি দিল, পুলিশে খবর দিল। মালেক কে পুলিশের সামনেই মুক্ত করে আনলেন। সেজন্য সাত দিন হাজত বাস হলো। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য ইডেন ভবনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর এর বাসা ঘেরাও করার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার এবং বেঙ্গল স্পেশাল পাওয়ার্স অর্ডিন্যান্স এর ১০ A(১)a ধারা অনুযায়ী ৬৯ দিন রাজবন্দী হিসেবে অন্তরীণ ছিলেন।
১৯৪৯ সালের ১৮ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গোপালগঞ্জ কোর্ট মসজিদের সামনে জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর থানা মামলা নম্বর ১১ তারিখ ১৮-৭-১৯৪৯ দায়ের করা হয়। ওই দিনে বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৪৯ সালে পুনরায় আরমানিটোলা ময়দানে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১১-১০-৪৯ তারিখে দণ্ডবিধির ১৪৭,১২৫ এবং বেঙ্গল স্পেশাল পাওয়ার্স অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) ও ১৮(২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় ১৯ নম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়। এই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭ ধারায় তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে জেলের কর্মচারী ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ অবলম্বন করে বক্তব্য দিয়ে মিছিল করায় লালবাগ থানায় ০৭-০৫-৫৪ তারিখে পাকিস্তান পেনাল কোডের ১৪৭, ৪৪৭, ৪২৭, ৩২৬, ৩৩২, ৩৫৩,১০৯ ও ১৪৯ এবং ১৯৫১ সালের ইস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অর্ডিন্যান্সের (ইস্টবেঙ্গল অর্ডিন্যান্স নাম্বার ২১ অফ ১৯৫১) ৪১(১) ধারায় ১৯ নম্বর মামলা করা হয়। ১৬ জুন ১৯৫৪ সালে তাকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং একই আইনের ৯২এ ধারায় ডিটেনশন দেওয়া হয় এবং একের পর এক মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন মামলা দিতে পিছপা হয়নি ১৯৪৭ সালের ১১ নম্বর আইনের ৫(২) ধারায় এবং ১৯৫৮ সালের ৭২ নম্বর ইস্ট পাকিস্তান ক্রিমিনাল ‘ল আমেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স এর ৫এ ধারায় মামলা করা হয়।
১৯৬২ সালে প্রি জুডিশিয়াল বক্তব্যের অজুহাতে পূর্ব পাকিস্তান স্পেশল পাওয়ার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এর ৪১(১) ধারায় মামলা করা হয়। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান পেনালকোডের ১২৪এ এবং ১৯৫৮ সালের ইস্ট পাকিস্তান স্পেশল পাওয়ার্স অ্যাক্ট এর ৭(৩) ধারায় প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিটির অজুহাতে মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৩ সালের শীতের মাস ডিসেম্বর ১৫ তারিখে ঢাকা স্টেডিয়ামে বক্তব্য দেওয়ার জন্য পাকিস্তান পেনাল কোড এর ১২৪এ ধারা এবং ১৯৫৮ সালের ইস্ট পাকিস্তান প্রেস অর্ডিন্যান্স এর (৭)৩ ধারায় মামলা করা হয় যা ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জি আর মামলা নম্বর ১এ/৬৪ তে রূপান্তরিত হয়। এই মামলায় ২৮ শে জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আদালতে এক বছরের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। হাইকোর্টে আপিল হয়। ১৯৬৪ সালের ২৩ শে জানুয়ারি সাভারের দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এর গাড়িতে “পূর্ব পাকিস্তান রুখে দাড়াও” লিফলেট ছুড়ে মারার ঘটনায় জড়িত করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতার বিরুদ্ধে সাভার থানায় ২৩ শে জানুয়ারি ১৯৫৮ সালের প্রেস ও পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্সের ৫৫(১)(২) ধারায় এবং পাকিস্তান পেনাল কোডের ৪২৬, ৩৫২, ৫০৬ ও ১৫৩ ধারায় ১৩ নম্বর মামলা হয় যা আদালতে এসে ৬৪ সালের ৩৬ নম্বর জি আর মামলায় রূপ নেয়। “পূর্ব পাকিস্তান রুখে দাড়াও” লিফলেট এর জন্য পৃথকভাবে আরেকটি মামলা হয় সেই মামলা নম্বর রমনা থানা পিএস কেস নাম্বার ১০১, ১৯ জানুয়ারি ১৯৬৪ ধারা ৫৫(১) এবং(২) এবং ১৯৫৮ সালের পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্সর ৫০ ধারা, যা পরবর্তীকালে জি আর মামলা নম্বর ৪০৬/৬৪ তে রূপান্তরিত হয়। এই মামলায় বঙ্গবন্ধুর ছাড়াও আরো ১১ জন আসামি ছিলেন। “প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার দিন” পালনের জন্য মার্চ মাসের ২৯ তারিখ ১৯৬৪ সালে আউটার স্টেডিয়ামে বক্তৃতা দেওয়ায় ঢাকা কোর্টে সৈয়দ মান্নান বক্স নামের একজন পুলিশ অফিসার ১৯৬৪ সালে ২ এ নম্বর সি আর মামলা দায়ের করেন। এম এস আলম, এ ডি সি জেনারেল এই মামলা বিচারক ছিলেন। ১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখে ঢাকা স্টেডিয়ামে “এন্টি রিপ্রেশন ডে” উপলক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে রমনা থানায় ২২-১১-৬৪ তারিখের ৯৮ নাম্বার মামলা দায়ের করা হয় যে মামলা কোর্টে আসলে জি আর কেস ৫০৮১/৬৪ হয়। এই মামলার বিচারক প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মালেক ২৪ শে অক্টোবর ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুকে খালাস দেন। জনাব মাসুদ ডিআইবি অফিশিয়াল এই খালাসের বিরুদ্ধে জাস্টিস বাকির এবং জাস্টিস আব্দুল হাকিমের কোটে আপিল দায়ের করেন। ১৯৬৬ সালের ২০ শে মার্চ ঢাকা স্টেডিয়ামে ছয় দফা দাবি ব্যাখ্যা এবং পূর্ব বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বক্তৃতা করায় ১৯৬৫ সালের ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪৭(৫)ধারায় রমনা থানায় ৮০/ ১৭ এপ্রিল ১৯৬৬ মামলা হয় যা জিআর মামলা নম্বর ১৮৯৩/৬৬ । এই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণী আফসার উদ্দিন আহমদ ১৯৬৭ সালের এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখে ১৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এই কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তৃতীয় এডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ কায়সার আলী ২৮ অক্টোবর ১৯৬৭ কারাদণ্ড বহাল রাখেন তবে তা 8 মাসে কমিয়ে দেন।
১৯৬৬ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু বেগমগঞ্জে গিয়েছিলেন বক্তৃতা দিতে, যথারীতি বক্তৃতা দিয়েছেন। সরকার থেকে বেগমগঞ্জ থানায় ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪৭ ধারা এবং ১৯৫৮ সালের পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) ধারায় ছাব্বিশে আগস্ট ১৭ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। ছএই মামলা আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করার পর প্রত্যাহার করা হয়।
তারিখটা ছিল ১১ ই মার্চ ১৯৬৬ সাল ময়মনসিংহ শহর সরগরম বঙ্গবন্ধু এসেছেন এবং বক্তৃতা দিয়েছেন কিন্তু সরকার তাতে দারুন অখুশি। সরকারের অজুহাত, বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ এবং ঘৃণা সৃষ্টি করছেন তাই পুলিশ অফিসার ই এ চৌধুরী কে দিয়ে ২২ এপ্রিল ১৯৬৭ সালে ১৯৬৫ সালের ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪৭(৫) ধারা, পাকিস্তান পেনাল কোডের ১৫৩এ ধারা এবং ১৯৫৮ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) এ ধারায় ৪০৯(১)৬৬ নম্বর সি আর মামলা করানো হয়। আগরতলা মামলার প্রত্যাহারের পর এই মামলারও প্রত্যাহারের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটে। পবিত্র নগরী সিলেটে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ১৪ ই মার্চ হাজির হলেন এক বক্তৃতার উদ্দেশ্যে, যথারীতি বক্তৃতাও দিলেন কিন্তু বাঁধ সাধলো সরকার ডেপুটি সুপারেনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মুসা মিয়া চৌধুরী ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণি এম এ হালিমের কোটে সি আর মামলা ১৪১৫/৬৬ ধারা ৪৭(১) ডিফেন্স পাকিস্তান রুল ১৯৬৫, পূর্ব পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এরং সেইসাথে পাকিস্তান পেনাল কোডের ১৫৩এ ধারায় মামলা দায়ের করা হলো। আগরতলা মামলার পর পরই এই মামলার যবনিকাপাত হয়। বঙ্গবন্ধূ ১৯৬৬ সালের ২৬ শে মার্চ সাংগঠনিক কাজে সন্দ্বীপ গিয়ে এক বক্তৃতা দেন এই বক্তৃতার বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানায় ২৩শে এপ্রিল ১৯৬৬ সালে ১৯৬৫ ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪১(৬)(f) ধারা এবং ১৯৫৮ সালের পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) ধারায় ৯ নম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়। যে মামলা চট্টগ্রাম কোর্টে ১৯৬৬ সালের ২২ নম্বর জিআর মামলায় রূপান্তরিত হয়। আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের পর এই মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৬৬ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু গেলেন পাবনাতে সেখানেও যথারীতি বক্তৃতা দিলেন এবং পাবনা থানায় ৮ মে ১৯৬৬ সালে ১৯৬৫ সালের ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪৭(৫) ধারা এবং ১৯৫৮ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এবার আসি আমার নিজ জেলা যশোরের ইতিহাসে তখন আমি সবে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ১৫ এপ্রিল ১৯৬৬ সাল বঙ্গবন্ধু এসেছেন টাউন হল ময়দানে, বক্তৃতা দিয়ে চলে গেলেন দুমাস পর ১৯৬৬ সালের ১৬ ই জুন একই ভঙ্গিতে ১৯৬৫ সালের ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলের ৪৭(৫) ধারা এবং ১৯৫৮ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রেস এন্ড পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্সের ৭(৩) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হলো। এস আর ও ৫৯(আর)/৬৮ তারিখ ২১-০৪-১৯৬৮ জারী করে ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল ক্রিমিনাল ল’ আমেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ৪ নম্বর ধারায় ক্রিমিনাল ল’ আমেন্ডমেন্ট স্পেশাল ট্রাইবুনাল ১৯৬৮ গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সহ ৩৫ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি দেশদ্রহিতার অভিযোগ এনে মামলায় আসামি করা হয়। এই মামলা আগরতলা মামলা নামে পরিচিত। সমগ্র পূর্ববাংলা উত্তাল হলে ২২-০২-৬৯ তারিখে এই মামলা প্রত্যাহার করা হয়। সেই জোয়ারে অন্যান্য মামলাও ভেসে যায় প্রত্যাহৃত হয়। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অন্তত এক ডজন মামলা করা হয়েছিল। গোয়েন্দা বিভাগের পছন্দনীয় ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণী আফসার উদ্দিন আহমেদ কে দিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এমনকি ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে তার বদলী বাতিলের জন্য এসব এ খসরু, ডি আইজি পুলিশ এসবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব (পলিটিক্যাল) নাজিম উদ্দীন আহমদ চৌধুরী সিএসপি এর কাছে ৪জানুয়ারী ১৯৬৯ সালে ১৪৩ নম্বর পত্র লেখেন। এখানে লক্ষণীয় যে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে যখন বদলি করা হয়েছিল তখন গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তদবীর ও তৎপরতা চালিয়ে তার বদলী বাতিল করা হয়েছিল। তৎকালীন ইত্তেফাক ছাড়াও অন্যান্য পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল বদলির ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যতিক্রম কেন? জাতির পিতাকে নিশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি আইন জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিচারকালীন সময়ে বিচার কাজ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিচারপতিদের বিব্রত হওয়ার ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বিচার কোন দেশের সভ্যতার মাপকাঠি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে উৎসাহিত করে। সেই প্রাচীনকালের তা উপলব্ধি করে ২০০০ বছরেরও বেশি আগে রোমান রাষ্ট্রনায়ক Cicero বলেছিলেন- “Justice is the sum of all virtue”।
এন আই খান
কিউরেটর
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।






