Bei We বা পশ্চিম উই মূলত মঙ্গোলিয়ার দিক থেকে আসা তুর্কি বংশ। হান রাজবংশের পর এরা চীনের উত্তর অংশে রাজ্য স্থাপন করে ২২০ থেকে ৪২০ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করে। এরা ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্ম গুরুদের কাছে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়। নতুন যে কোন ধর্মের আলাদা একটি ধর্মীয় উন্মাদনা থাকে। এখানেও তার ব্যতিক্রম না এরা Kuchia এর কাছে Magao গুহার মধ্যে নানা ধরনের গুহাচিত্র ছাড়াও বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে। এখন এগুলো UNESCO heritage site ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৭৫০ টি গুহায় অন্তত ৭৫ হাজার গুহাচিত্র আছে। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই গুহাচিত্রগুলো সৃষ্টি করা হয়। এটি একটি বৌদ্ধ বিহার এখানে প্রায় দশ হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু থাকতেন। এখন এখানে রুক্ষ বৃক্ষ মরুভূমি চাঁদের পৃষ্ঠের মতো মনে হয়। তখন কার দিনে স্থান আরো বেশি সবুজ ছিল পাশ দিয়ে কুচা নদী প্রবাহিত হতো। কিন্তু এই বুদ্ধভিক্ষুদের অবস্থান থেকে বোঝা যায় এখানে বেশ বড় আকারের একটু সহজ ছিল। এটি মধ্য এশিয়ার সাথে চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য ধর্ম উদ্ভাবন ইত্যাদির মিলনস্থল। তাই বেশ সমৃদ্ধশালী ছিল।
উই সম্রাটরা মূলত যাযাবর পশুপালন শিকার এবং লুণ্ঠন এদের একসময়কার প্রধান জীবিকা হলেও কালক্রমে তারা চীনাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তাদের উন্নত সংস্কৃতি গ্রহণ করে তারা চীনা জাতির সাথে মিলে যায়। যদিও শহরের বাইরে দূরবর্তী অঞ্চলে তখনও তারা পুরানো যাযাবর জীবন যাপন করত। সে কারণে বিলাসবহুল শাসকদের সাথে তাদের কিছুটা মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। চীনের উত্তর অঞ্চল থেকে মানুষকে এনে এখানকার জমি তাদেরকে দিয়ে চাষবাস করাতে এই শহরকে খাদ্য সরবরাহ করা সহজ হয়ে ছিল। অর্থনীতি বেস সমৃদ্ধশালী হয়েছিল।
কিন্তু লক্ষ্য করা যায় তৃতীয় সম্রাটের সময় এখানকার সকল বৌদ্ধভিক্ষুদের হত্যা করা হয়। Emperor Taiwu সরকারি আদেশে ৪২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী Qui Hao এর পরামর্শক্রমে Kou Qianzhi কে তাওধর্মের Celestial Masters হিসাবে ঘোষণা করে। এরা তিনজনই বৌদ্ধ ধর্মের ঘোর বিরোধী ও তাও ধর্মের গোড়া সমর্থক ছিলেন। Zhang Daoling প্রবর্তিততাও ধর্মকে অনেক সহজ করেন এবং অনেক রিচুয়াল বাতিল করেন। এর ফলে তাও ধর্ম বেশ জনপ্রিয় হয়। এই সুযোগে বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ বিহারের আর্থিক প্রাচুর্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অন্যতম কারণ। এর আগের সম্রাট বৌদ্ধবিজ্ঞদের প্রশাসনের আসলে পদ সোপানে সজ্জিত করেন। বিশাল সংখ্যক বৌদ্ধ ভিক্ষু সংসার বিরাগ জীবন যাপন করেন। বৌদ্ধ বিহারের রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হতো।
প্রথমত বিশাল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও গুহা চিত্র অংকন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ বিনিয়োগ হতো। নতুন ধর্মান্তরিত হবার জন্য তাদের মধ্যে একটা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল। তারা বৌদ্ধ ধর্ম গুরুদের শাসকদের চেয়ে বেশি সম্মান করতেন। এসব কারণ হয়তো মধ্যবিত্তদের হত্যার জন্য দায়ী হতে পারে। এ লক্ষ্য করা যায় ওই সম্রাটের পুত্র ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার গোপনে ভৌত বিজ্ঞানের সাহায্য করতেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার সিংহাসন আরোহণের আগেই মৃত্যু ঘটে। তবে চতুর্থ চতুর্থ রাজা বৌদ্ধ ধর্মকে আগের মত রাষ্ট্রীয় ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। বৌদ্ধ ধর্ম অত্যাচারী রাজার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
এই ধরনের দ্বন্দ্ব কোন নতুন কিছু না। কোন নতুন ধর্ম আসলে এই ধরনের হত্যা এবং অত্যাচার দেখা গেছে। যা খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে হয়েছে। মুসলমান ধর্মেরও আদি পর্বে এ ধরনের ঘটনার ইতিহাস আছে।






