কোন সরকারের আমলকে বাংলায় শাসন আমল বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সে সরকারের সময় কালকে যদি ওই সরকারের সেবা আমল বলা হয় তাহলে কেমন হয় ? শাসন, প্রশাসন বা এডমিনিস্ট্রেশন শব্দগুলো আমাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। সেবা শব্দটি সেই অর্থে আকর্ষণীয় নয়। যদিও সুশীল সমাজের মানুষেরা সরকারি কর্মকর্তা বলতে নারাজ বরং সরকারি কর্মচারী বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তারা এও বলে থাকেন জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের বেতন হয় কিন্তু কখনো বলা হয় না জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কিংবা বিদেশ থেকে ধার করা টাকায় উন্নয়ন কাজের কন্টাকটারি করে টাকা আয় করা হয়। কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের টাকায় পারসেন্টেজ নিয়ে কোন কোন পেশার মানুষ আয়েশী জীবনযাপন করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এইসব মানুষেরা প্রশাসন শব্দটা ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করে। বিসিএস প্রশাসন একাডেমীর সৃষ্টির সময় আমি নিজে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদ না রেখে উপ-পরিচালক সেবা পথ রেখেছিলাম কিন্তু কিছুদিন পর লক্ষ্য করলাম আমি চলে আসার পরে সেগুলো উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সরকার সে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় যাই হোক না কেন তার উদ্দেশ্য মূলত মানুষের সুযোগ-সবিধা দেখভাল করা বা সেবা করা। আমরা অনেক সময় মনে করি এটি অতি সাম্প্রতিক বিষয় কিন্তু আসলে তা নয়। প্রাচীন চীনের একটি লোককাহিনী থেকে কিংবা father of Chinese histography সিমা চিয়ানের Shiji থেকে জানা যায় প্রতিবছর পীত নদীর বন্যার কারণে মানুষ ব্যাপক দুঃখ কষ্টের মধ্যে পড়তো, ফসলের ক্ষতি হতো তৎকালীন শাসক Gun কে বন্যা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নয় বছরের প্রচেষ্টায় ডাইক নির্মাণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন কিন্তু বন্যায় ডাইকগুলো ভেঙে যায় অর্থাৎ বন্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বিফল হয়। সে কারণে গুনকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাজা দেওয়া হয়। তার পুত্র Yu বন্যা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়ে খাল খনন করে অতিরিক্ত পানি ধারণের ব্যবস্থা করেন এবং একই সাথে নদী খনন করে পানির প্রবাহ গতিশীল করে সমুদ্রে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ১৩ বছরের প্রচেষ্টার ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। রাজার মৃত্যুর পর জনসাধারণ তাকে ক্ষমতায় বসায়। স্পষ্ট তোই বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ব্যাপক সেবামূলক ভূমিকা রাখায় তাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠান করা হয়। আমাদের দেশে এই ধরনের কাজে নানা ধরনের ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে বের করতে দেখা যায়। সাম্প্রতিককালে এমনি একটি উদাহরণটা আনা যায়। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হয়েছে মূলত মিরেশ্বরাই এর ৫০ হাজার একরের উপর নির্মিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা যেন যানজটের সম্মুখীন হয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে দোষারোপ করা হয়েছে যে কোন মন্ত্রীর বাড়ি যাওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে। কোন কোন সাংবাদিক দেখাতে চেয়েছেন এই টানেলে কোন গাড়ি চলছে না বিনিয়োগ অর্থহীন। কিন্তু অবকাঠামোর বিনিয়োগ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সৃষ্টির আগেই করতে হয় সে বিষয়টি বেমালুম ভুলে গেছেন অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চেপে গেছেন। বাংলাদেশের অনেক মানুষ এই বক্তব্যকে গ্রহণ করে বাহবা জানিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন। লন্ডনের মানুষ এক বোতল পানি কেনা খাওয়ার পাউন্ড নাই এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। যারা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আসেন তারা এক বোতল পানি কিনে খেতে পারবেন না সেই সমর্থ্য নেই এটাও বিশ্বাসযোগ্য না। কিন্তু যারা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আসবেন তাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য Great Russell Road এর পাশে Roseberry Square এর কোনায় নিচের চিত্রের সুপেয় পানির ফুয়ারা স্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রশাসন না বলে একটি সেবার উদাহরণ বললেই ভাল হয়। বাংলাদেশের সমালোচকদের কাছে এটি রাস্তা নোংরা করার একটি প্রয়াস কিংবা এটি স্থাপন করে কন্টাকটারি থেকে আয় করার উদ্দেশ্যে অথবা প্রয়োজন ছাড়াই অহেতুক স্থাপন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর কোন অভাব হবে বলে মনে হয় না। এই ধনী দেশেও মিউজিয়াম পরিদর্শনকারীদের এখানকার পানি পান করতে দেখেছি। খালি বোতলে পানি ভরে নিতেও অনেকে অনেকে দেখেছি। বাংলাদেশে অনেকের পানি কিনে খাওয়ার অর্থ ব্যয় করতে বেশ কষ্ট হয় কিন্তু আমাদের রাস্তায় এ ধরনের পানির ব্যবস্থা করে মানুষের সেবা করা বেশি দরকারি হলেও এই ব্যবস্থা দেখা যায় না।







