এন আই খান
জুলাই ৫, ২০১৭
স্কুলের বাইরের শিশু বলতে যারা আদৌ ভর্তি হয়নি, যারা ঝরে পড়েছে এবং যারা অকৃতকার্য হয়ে রিপিট করেনি
করেনি। এদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হলে তিনটি স্তরে করতে হবে-
ক) সনাক্ত করণ
খ) বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা
গ) পরিবারের আর্থিক বিষয়টি এড্রেস করা
ঘ) ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষা ও কর্মে একই সাথে সংযুক্ত করা
ঙ) শিক্ষা শেষে লাভজনক কর্মসংস্থান।
আজ শুধু সনাক্তকরণ সম্পর্কে বলব।
মোটা দাগে আমাদের দেশে প্রতি বছর ৪০ লক্ষ শিশু জন্মে। আজকের বিরাজমান অবস্থা ধরে নিয়ে হিসাব করলে দেখা যাবে এদের ১০ লক্ষ শিশু প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেটের আওতার বাইরে থাকবে। নিন্মমাধ্যমিক স্কুলের ১৫ লক্ষ শিশু সার্টিফিকেটের আওতার বাইরে। মাধ্যমিকের পর্যায়ের বয়সের ২৫ লক্ষ শিশু সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারবে না। উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩০ লক্ষ।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কী হতে পারে ? শতকরা ৭৫ ভাগ শিশু যদি উচ্চমাধ্যমিকের দরজা পার না হতে পারে তবে পাশ করাদের দিয়েই কী উন্নত দেশ গড়া যাবে ? আর যারা পাশ করতে না পারে তাদেরকে দিয়েই বা কী হবে ? আমাদের দেশকে যদি উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চাই তবে সবাইকে উচ্চ মাধ্যমিকের দেয়াল টপকাতে হবে। তা করতে হলে কী করতে হবে তা উল্লেখ করব। যদিও কেউ কেউ বলবেন বেশী বাজেট বরাদ্দ; অন্যরা হয়তো বলবেন শিক্ষক নিয়োগ করতে বলবেন। মত আসতে পারে এমপিএ দিতে হবে।
কিন্ত কোন কাজ করতে হলে তার বিস্তৃতি সম্পর্কে তথ্য থাকতে হবে। পরিমাণ বা সংখ্যা জানতে হবে। আমরা কী সংখ্যা এবং কোথায় কত তা জানি? ব্যানবেইজের হাতে কী সেই তথ্য আছে? আমার জানা মতে ব্যানবেইজ কত ভর্তি হলো আর কত ঝরে পড়লো তাই জানে। কিন্তু একই বয়সের মোট শিশুর সংখ্যা কত তা কেউ জানে? জানতে হলে আদমশুমারী থেকে হিসাব করে প্রজেকশন করতে হবে? কে খাটুনি করে বের করবেন? অবশ্য বর্তমান পরিচালকের নেতৃত্বে সে কাজ হচ্ছে।
এরপর প্রতিটি স্কুলের বাইরের শিশুকে স্কুল ওয়াইজ সনাক্ত করতে হবে। সনাক্ত করা না গেলে তাদের সম্পর্কে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় না। সনাক্ত তারাই করবেন যারা ব্যবস্থা নেবেন অর্থাৎ স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
কীভাবে স্কুলের বাইরে শিশুকে সনাক্ত করা যায় ?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে কোন স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় সার্ভে করা হয়। ক্যাচমেন্ট এরিয়া হচ্ছে সেই এলাকা যেখান হতে শিশুরা কোন নির্দিষ্ট স্কুলে আসে। এটি আগে থেকে নির্ধারণ করা আছে। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সবাই সেই নির্দিষ্ট স্কুলে আসবেন এমন কোন বাধ্যবাধকতা এখনও নেই। তবে এটা থাকায় কোন স্কুল এলাকার কে কোন স্কুলে গেল বা গেল না তার হিসাব রাখা সহজ। স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলে ভর্তি না হওয়া, ঝরে পড়া ইত্যাদি শিশুদের সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেন। প্রাইমারি ছাড়া অন্য কোন বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা নেই। না থাকায় কেউ কোন হিসাব-কিতাব রাখেন না। এই হিসাব না রাখা পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া বা মনিটর করা সম্ভব না। শুধু পড়ালে বা জ্ঞানী হলে হবে না, এর বাইরে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা থাকতে হবে বা তৈরি করতে হবে। এটা কোন কঠিন কাজ না। অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করতে হয়। তবে প্রাইমারির চেয়ে সেকেন্ডারি একটু জটিল কারণ একই ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় মাদ্রাসা, কারিগরী, বা টেকনিকাল স্কুল আছে। আমি সচিব থাকাকালীন এটি করার নির্দেশনা দিয়েছি। সকলে বুঝলে, একযোগে কাজ করলে কিছুই না। আর না বুঝে না করলে সময় লাগবে। পিছিয়ে যাবে।







