মানুষ জন্ম স্মরণে আলো নেভায় আর মৃত্যু স্মরণে জ্বালায় কিন্তু যে আলো জ্বালাতে হয় না, নেভেও না সেই আলো ফজলুল হক মনি।
প্রধান সেনাপতি ফজলুল হক মনি শুনে চমকে উঠতে পারেন, সে কথায় পরে আসি। রাজনীতিক ফজলুল হক মনি তা সবাই জানে, ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা, যুগপৎ তেজগাঁ আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য।
ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মনি- ১৯৬০-৬৩ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
সম্পাদক ফজলুল হক মনি-তাঁর সম্পাদনায় স্বাধীনতাপূর্ব সাপ্তাহিক বাংলার বাণী ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দৈনিকে রূপান্তরিত, ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট সাপ্তাহিক সিনেমা পত্রিকা, ১৯৭৪ সালের ৭ জুন দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস প্রকাশিত হয়।
লেখক শেখ ফজলুল হক মনি-তাঁর রচিত গল্পের সংকলন বৃত্ত ১৯৬৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ‘বাংলাদেশে গণহত্যা’ সংকলন এবং তার রচনা অবলম্বনে টেলিফিল্ম ‘অবাঞ্চিতা’ তৈরি হয়।
ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে এস.এস.সি, ১৯৫৮ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি, ১৯৬০ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে বি.এ, ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ এবং কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে আইনে ডিগ্রি লাভ কিন্তু ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের নিকট থেকে সনদপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলে তাঁর ডিগ্রি কেড়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে মামলায় জয়লাভ করে ডিগ্রি ফিরে পান।
১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন।
১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয়দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
১৯৭০ এর নির্বাচনে সক্রিয় বুদ্ধিজীবী কর্মী।
ফিরে আসি সেনাপতিত্বে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর উদ্যোগে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়। এ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালি, সিলেট, ও পার্বত্য চট্টগ্রামে হানাদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
এমন একজন Polymath ভাগ্নে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত হবে তা কি স্বাভাবিক না? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডী ৩২ নম্বরে বাংলার হ্রদপিন্ড স্তব্ধ করে ঘৃন্য ঘাতকেরা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ডের আদলে ধানমন্ডী ৫এ বর্তমান ল্যাবএইড এর গলির বাসিন্দা মাত্র ৩৫ বছর বয়সের শেখ ফজলুল হক মনিকে স্ত্রী আরজু মনিসহ হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর দক্ষিণ হস্ত চিরতরে নিস্ক্রিয় করতে চেয়েছিলো। কিন্তু অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া দুই ছেলে তাপস ও পরশ রাজনীতিবিদ আর শিক্ষাবিদ জানান দিয়ে যাচ্ছে শেখ ফজলুল হক মনি মরেও অমর। আজ ৪ ডিসেম্বর এই অমরের জন্মদিন।







