একটা ঘটনা না বললে নয়। আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, হাবিবুর রহমান হলে থাকি। জিয়াউর রহমান রাস্ট্রপতি নির্বাচন দিয়েছেন। একশত জনের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচলে অংশ গ্রহণ করেছেন। প্রার্থীরা প্রচারে নেমেছে। অনের প্রার্থীর নাম জীবনে কেউ শুনিনি। দেশে ক্রাইসিস আর এর মাঝে এতজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করছেন। এটা বুঝতে শিখেছি যে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য এতজনকে দাড় করানো হয়েছে। মনে প্রচন্ড ক্ষোভ। এমন অবস্থায় একদিন শুনলাম একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সম্ভবত হাতি মার্কাকে ক্যানভ্যাস করার লোভ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা করার নাম করে এনে হাবিবুর রহমান হলের টিভি রুমে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। খবর পেয়ে খাবার ফেলে ডাইনিং হল থেকে দ্রুত চলে আসলাম। দেখলাম একজন ছেলে তাকে ঘাড়ে করে রেখেছে। অন্য সবাই ঘিরে রেখেছে। তার দাবি করছে সে যেন ঘোষণা দেয় যে, সে রাস্ট্রপতি হলে ছেলে এবং মেয়েদের হল এক করে দেবে। কিন্তু সে রাজি হতে চায় না, বলছে এমন দাবী করতে যেন মানা যায়। বললেন তিনি হাইকোর্টের উকিল। আইনের লোক। কে শোনে কার কথা, তার পকেট থেকে সবকিছু বের করে নেয়া হয়েছে। সবে বল পেন জনপ্রিয় হচ্ছে, সেটা দিয়ে পিছনে খোচা দেয়া হচ্ছে ঘোষণা বের করার জন্য। সবাই মজা করছে আমার ইচ্ছা ছিলো তাকে একটা ঘুষি দেব কিন্ত কোন চান্স হলো না। সবাই মজার করার জন্য এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যে আমার ভাগে কিছু পড়লো না। কিছুক্ষণের মধ্যে নেতারা এসে তাকে উদ্ধার করলে আমি ব্যর্থ হই।
কিছু ছেলে সার্কিট হাউজে ওত পেতে আছে একজন রাজনীতিবিদের বোন মহিলা প্রার্থী (রাজনীতিবিদ) রাজশাহী এসেছেন। ক্যানভ্যাসের নাম করে তাকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনা যায়। আগের প্রার্থীর মত তাকে বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্বর্ধণা দিলে নির্বাচনের জন্য তার উপকার হবে। আসল মতলব তার কাপড়-চোপড় খুলে অপমান করা। সার্কিট হাউজের ভাত খেয়ে জিপে রওনা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আসলে জীপ না থেমে চলে গেল ঢাকার দিকে। যারা তাকে আনতে চেয়েছিলো তারা কোনমতে নেমে পড়তে পারলো।



