মা গোলা থেকে ধান পেড়ে বিক্রি করে ১২৭ টাকা দিলেন। টাকার পরিমাণও কম কাঁদো কাঁদো হয়েও ঐ টাকা নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। বাসার পাশেই মাইকেল মধুসূদন কলেজের শিক্ষক মজিবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার আপন ছোট ভাই এনামুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে গেলাম। খুঁজে হাবিবুর রহমান হলের এনামুল হক সাহেবের কক্ষে হাজির হলাম। তিনি বাস্তবধর্মী মানুষ ,আমাকে অনেক পরামর্শ দিলেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও ফলিত রসায়ন এই দু’টি বিভাগে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। উদ্ভিদবিদ্যার পরীক্ষা দিলাম, ফলের জন্য অপেক্ষা করছি। দুটি বিভাগেই চান্স পেলাম। এনামুল হক সাহেবের সাথে পরামর্শ করে উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়া মনস্থির করলাম। ভর্তি হয়ে গেলাম। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল কোথায় থাকব? সাথে সাথে হলে সিট পাওয়া যায় না। যদি একটু নামিদামি হলে নাম দেওয়া হয় তবে শেষের এক বছর ছিট পাওয়া যায়। অপশান দিলাম হাবিবুর রহমান হলে। হাবিবুর রহমান হল বড় সিট পাওয়া সহজ । তারপরও সিট পেতে কয়েক মাস দেরি হবে। কোথায় থাকা যায় ভাবতে লাগলাম। ছোট মামা ফজর আলী নামের একজনকে হাজির করল। তার ভগ্নিপতি রাজশাহীতে পুলিশের এসবিতে চাকরি করে। তার বাড়ীতে থাকার ব্যবস্থা করে দিল। শহরের ভেতরে তার বাড়ি। গোছল করতে হয় পুকুরে। পুকুরে অনেক আবর্জনা পড়ায় পানি সব সময় সবুজ থাকে। সেখানে গোসল করতাম। রাজশাহীতে শীত বেশি। শীতের দিন খুবই কষ্ট হতো। সেখানে গোসল করতে গিয়ে কিছুক্ষণ রোদ পোহাতাম। তারপর হঠাৎ পানিতে ঝাপ দিতাম। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল। তারা এমনিতেই খুব একটা স্বচ্ছল না। আমি তাদেরকে খাওয়ার টাকা দিতাম। তারপরেও আমি অস্বস্তি বোধ করতাম। তবে তারা খুবই আন্তরিক ছিল। আমি হলে সিট পেলাম। ইতিমধ্যে অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। আমার বন্ধুরা তখন অনেকে সিট পায়নি। কারন তারা সবাই আমির আলী, জোহা এই ধরনের ভালো হলের অপশন দিয়েছিল। আমার সাথে আমার সহপাঠী বায়েজিদ হোসেন ডাবলিন করা শুরু করল। এভাবে আমাদের দুই বছর কেটেছিল। গরমের দিনের ছোট্ট এই খাটে তার কষ্ট হতো। সে মাঝে মধ্যে নাক ডাকত সেসব কথা বললে সে রেগে যেত। সে লেখাপড়ার জন্য অনেক কসরত করতো। তার সাথে এখনো বন্ধুত্ব অটুট আছে। আমার কোন বিপদ আপদ এলে সে এখনো খোঁজ খবর নেয়। তবে আমরা একত্রে কোন কাজ করলে তা কখনই সফলকাম হতে পারিনি। একসাথে যদি সিনেমা দেখার জন্য যেতাম তবে হয়তবা টিকিট পেতাম না। যদি ট্রেন ধরতে যেতাম তবে ট্রেন ফেল করতাম অথবা ঐদিন হয়ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে সিনিয়র scientific অফিসার হিসেবে অবসরে গেছে। গাজীপুরের বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
Share this post



