লেভান্তে (ইরাক সিরিয়া জর্ডান লেবানন) প্রথম ১০০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে যাযাবর জীবন পরিত্যাগ করে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। বরফ যুগ শেষ হয়ে উষ্ণযুগে প্রবেশ করায় অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এটি করতে হয়। তারা বসত ঘরের পাশে খোয়াড়ে পশু ও কৃষি ক্ষেতে ফসল ফলানো শুরু করে। ফসলের মধ্যে প্রথম চাষ শুরু হয় তবে যব, গম(এমার), মটর, ছোলা, মসুর ডাল, সিম ইত্যাদির। তবে মাঝেমধ্যে শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ চলতে থাকে।
পরবর্তী ৩০০০ বছরে ঐ এলাকায় এই ধরনের অসংখ্যা কৃষিগ্রাম গড়ে ওঠে। নতুন প্রস্তর যুগে ৮০০০ থেকে ৪৫০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে কৃষি ও পশূপালন firmly established। এই সময় তারা পাথর, ফ্লিন্ট ও অবসিডিয়ানের তৈরি যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে। ৫৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে মাটির পাত্র তৈরি শুরু করে। সেই সময় বয়ন, ঝুড়ি ও মূর্তি তৈরি করতে শুরু করে যা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ৪৫০০ থেকে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তামার ব্যবহার শুরু হয় তাই এই সময়কে Chalcolithic (তামা’র) যুগ বলা হয়। কৃষি আবিষ্কারের ফলে খাদ্য সংগ্রহের পর মানুষের অবসরের সময় থেকে যায়। এই সময় মানুষের শিল্পমন শিল্পী সৃষ্টিতে অবদান রাখে। তাই এই সময়কালে বসতঘরে দেয়াল চিত্র ও হাতির দাতে খোদাই শিল্পের সূচনা হয়। ধর্ম চিন্তারও বিকাশ ঘটে। আইন গজল এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হতে প্রতিচ্ছবি আঁকা যায়।

Ain Ghazal (আইন গজল)
আম্মানের উত্তর পূর্বে জারকা (Zarqa) নদীর ঢালে সেই সময়ের বিবেচনায় একটি বড় মানব বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এখানে ৭২০০ থেকে ৫২০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত চার পর্যায়ের বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এটি প্রথমে ছোট একটি গ্রাম হিসেবে শুরু হয় পরবর্তীতে যা ৩৪ একরের বড়সড় একটি শহরের ন্যায় রূপ নিয়েছিল। এখানে মাটির পুতুল, চুন প্লাস্টার করা মানুষের মাথার খুলি এবং প্রায় ২৫ টি মানুষের দেহাবশেষ সম্বলিত দুইটি Cashe পাওয়া গেছে। এখানে গ্রাম থেকে শহরের transformation বোঝার জন্য একটি উপযুক্ত স্থান।






