পীত নদীর উপত্যকায় Luoyang এর Erlitou গ্রামে ১৯০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চীনের প্রথম রাষ্ট্র গঠনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানে বিস্তৃত রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, আবাসিক এলাকা, কবরস্থান, রাস্তা এবং সিরামিক ব্রোঞ্জ ও টরকুইসের Torquoise ওয়ার্কশপ পাওয়া গেছে।
এই সংস্কৃতিকে ভিত্তি করেই এখানে গড়ে ওঠে Shang Dynasty স্যাং ডাইন্যাস্টি ১৬০০ থেকে ১৪৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বর্তমানের মধ্য ও উত্তর Henan হেনান প্রদেশে তাদের রাজধানী ছিল। ব্রোঞ্জ পাত্র ও হাড়ের লেখা থেকে এই বংশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেছে।
যদিও প্রথাগতভাবে চীনের প্রথম রাজ্যের শাসক জিয়া বংশ মর্মে বিশ্বাস করা হয়। খ্রিস্টপূর্বাব্দ প্রথম শতাব্দীর লেখক সীমাজিয়ান ছাড়াও অন্যান্যদের লেখায় উল্লেখ দেখা যায়। কিন্তু জিয়া বংশের কোন লিখিত প্রত্ননিদর্শন এখনও পাওয়া যায় নি। অপরপক্ষে, স্যাং বংশের প্রত্ননিদর্শন ছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সমগ্র কাহিনী আছে।
এদের নকশাকার খাড়া চার পায়াযুক্ত চতুষ্কোনা ও তিন পায়া যুক্ত গোলাকার Ding রিচুয়াল পাত্র সমাধি হতে পাওয়া গেছে। স্যাং রানী মাতা ইউ WU একটি পাত্র ১৩৩ সেন্টিমিটার উঁচু এবং ৮৩২.৮৪ কেজি ওজনের। প্রথমদিকে এসব পাত্রের কোনো ঢাকনা না দেখা গেলেও সাম্রাজ্যের শেষের দিকে ঢাকনি দেখা যায়। এ সাম্রাজ্যের শেষের দিকে এ ধরনের পাত্রের বহুল প্রচলন শাসক ছাড়াও উচ্চ-পদের কর্মকর্তাদের মধ্যে এসব পাত্রের ব্যবহার বাড়ে। প্রাপ্ত পাত্রে খচিত নাম থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা গেছে। এই আমলের আরেক ধরনের পাত্র Gui সম্ভবত এই ধরনের পাত্রে প্রথম হাতল ব্যবহৃত হয়।

ঝোউ Zhou বংশ Shang স্যাংদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করলেও একই ধরনের পাত্র তৈরি ও ব্যবহার করতে থাকে। তবে এইসব পাত্রে আকৃতি ও নকশার বৈচিত্র্য আনে। এমনকি ব্যবহারেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। He, Gonga ও You নামের পাত্র স্যাং আমলে মদ্যপানের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও, ঝউ আমলে শাসকরা ব্যাপক হারে মদ্যপান পছন্দ না করায় মদ্যপানে ওইসব পাত্রের ব্যবহার কমে। স্যাং আমলের শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্রের মধ্যে পশু আকৃতির পাত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, যা Zhou ঝউ আমলে ব্যবহার অব্যাহত থাকে।

এছাড়া আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ভাপে ভাত রান্নার জন্য পাত্র ব্যবহার হতো তবে এই পাত্রের উপর একটি ছিদ্রযুক্ত পাত্র দিয়ে তার মধ্যেই চাল দেওয়া হতো

কোন কোন পাত্র রিচুয়াল ধৌত করার জন্য ব্যবহৃত হতো। এ সময় আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে পাথরের নানা ধরনের পাত্রের প্রচলন।

এসব ব্রোঞ্জের পাত্র তৈরি পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের চেয়ে ভিন্নতর ছিল। অন্যান্য স্থানে সাধারণত Waste Wax পদ্ধতিতে তৈরি করা হতো। কিন্তু চীনে দীর্ঘদিনের মাটির পাত্র তৈরীর প্রচলন থাকায় মাটির ছাঁচে ঢালাইয়ের করে তৈরীর করা হতো। মাটি দিয়ে প্রথমে ভিতরের অংশ তৈরি করে তার গায়ে কাঙ্খিত নকশা করা হতো। এর উপর কাদা দিয়ে সাচ তৈরি করা হতো। আলাদা আলাদা কয়েকটি অংশে কেটে কয়েকটি টুকরা করা হতো। ভিতরের ছাঁচ ইপ্সিত পুরুত্ব অনুযায়ী সাইজের করা হতো। এরপর এই ভিতরের ফাঁকা জায়গায় গলিত ব্রোঞ্চ ঢেলে পূর্ণ করা হতো। ঠান্ডা হলে ছাঁচ ভেঙে পাত্র সংগ্রহ করা হতো।
সাং রাজ্যের আশেপাশে আরো অনেক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল; তাদের সাথে অনেক আদান-প্রদান হত। ঘোড়াকে পোষ মানিয়ে তার পিঠে চড়া; ঘোড়া দিয়ে গাড়িটা টানা ইত্যাদি উত্তরের যাযাবর পশুপালকদের কাছ থেকে স্যাং রাজ্যর মানুষেরা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে পুরোদস্তুর কৃষিকাজ শুরু হওয়ায় ফসল কাটার জন্য ব্রোঞ্জের কাস্তে ব্যবহৃত হচ্ছে।
দক্ষিণ সাইবেরিয়ার Karasuk (১৫০০ থেকে 800 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) এবং Tagar (৮০০ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ফসল কাটার কাজের নমুনা দেওয়া হলো।

উত্তরের এই পশুপালক যাযাবরদের পিঠ কূজা হাতলের প্রান্তে ঢালাই করার পশুর আদলের ছুরি কাস্তে চীনারা ব্যবহার শুরু করেছে।

দৈনন্দিন ব্যবহার্য ব্রোঞ্জের ছুরি
মাংস রান্না উপযোগী করার জন্য ব্রঞ্জের ছুরি ব্যবহৃত হচ্ছে। আলতাই পাহাড়ি অঞ্চলে তামা টিনের আকরিক পাওয়ায় উত্তরের মঙ্গোলিয়া ও সাইবেরিয়া অঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে আদান-প্রদানের মাধ্যমে এসব ছুরির কাছে ব্যবহার শুরু করেছে। সাং রাজ্যের উত্তরে দুই ধরনের বসতি ছিল এক ধরনের স্থায়ীভাবে বসবাস ও কৃষি কাজ করত। আরে উত্তরে পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের ব্রোঞ্জের শরীর কাছে সব
পীঠ বাঁকানো যা পরবর্তীকালে স্যাং সাম্রাজ্যের মানুষেরা গ্রহণ করেছে।স্যাং কবরে মাজায় গোজা খাটো দুধারী ব্রোঞ্জের ড্যাগার পাওয়া গেছে। সাধারণত এগুলো তৃণভূমির পশুপালকদের উপযোগী বিধায় তারা ব্যবহার করে থাকে। এদের কাছ থেকে আন্তবিবাহ, বাণিজ্য ইত্যাদিভাবে চীনা সমাজে গৃহীত হয়েছে।

প্রাচীন চীনের সংস্কৃতি অনুযায়ী চ্যাপ্টা প্রান্তের সাথে হাতল সংযুক্ত করা হতো। কিন্তু উত্তরের তৃণভূমির পশুপালকদের জন্য উপযোগী এক প্রান্তে সিলিন্ডারের মধ্যে ঢুকানো হাতলের কুঠার প্রচলন হয়। এর নিচে আরেকটি ছবিতে দেখানো আছে মূল চীনা চ্যাপ্টা প্রান্তের সাথে লাগানো হাতলের কোঠান এই বড় কোটার ব্যবহার উপযোগী না মূলত এটা রিচুয়াল কাজে ব্যবহৃত হতো। একসাথে আরো একটি ছুরি আছে এই ছুরিটির হাতল একি ভাবে কাঠের ছিল যেটা এখন আর নাই এবং এটিও রিচুয়াল কাজে ব্যবহৃত হতো। এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে ছুরির একটি প্রান্ত কাটা আজকাল অবশ্যই এ ধরনের করাত দেখা যায়।

সাং শাসনামলে গরু সামনের পায়ের ঘাড়ের হাড় ওরাকেল হাড় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই হাড়ের চিড় থেকে তারা নানা সিদ্ধান্তে উপনীত হতো। এই হাড়ের স্বর্গীয় লেখা আছে বলে মনে করা হতো। কোন কোন সময় এই হাড়ে লেখা হতো। মূলত পিক্টোগ্রাফীতে লেখা হতো যা থেকে পরবর্তীকালে চাইনিজ লেখা উৎপত্তি হয়েছে। এরকম বিপুল পরিমাণ ওরাক্যাল বোন আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ওরাকল বোনের চিড় থেকে নানা ভবিষ্যৎবাণী করা হতো।

ঝউ বংশ:
Wei নদীর উপত্যকা থেকে আসা ঝউ বংশ স্যাং বংশকে পরাজিত করে ৮০০ বছর ক্ষমতায় থাকে। ঝউ বংশ কে পশ্চিমের ঝউ (১০৪৬ থেকে ৭৭১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) এবং পূর্বের ঝউ (৭৭০ থেকে ২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) শাসন করে। এ সময়ে তারা Xian থেকে Luoyang রাজধানী স্থানান্তর করে। এই সময়কালকে চীনের স্বর্ণযুগ বলে উল্লেখ করা হয় । এই শাসন আমল চীনের আচার অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার মডেল হিসেবে গণ্য হয়। শাসকরা তাদেরকে স্বর্গীয় পুত্র হিসেবে ঘোষণা দেয় যা পরবর্তীকালে অন্য সকল শাসনকারী বংশরা গ্রহণ করে। অনেক বিখ্যাত চিন্তাবিদ এই সময়কার সৃষ্টি, এদের মধ্যে Laozi এবং Confucius উল্লেখযোগ্য। পূর্ব ঝউ আমলের উত্থান পতন ও রাজ্যগুলির প্রতিযোগিতার মধ্যে এসব মনীষীদের আবির্ভাব ঘটে।








