ছোটবেলায় গ্রামে মানুষ হয়েছি। গ্রামে প্রত্যেকের বাড়িতে বিড়াল ছিল। আমাদের বাড়িও তার ব্যাতিক্রম না। প্রতিবছর বিড়ালের বাচ্চা দিত। পুরুষ বিড়াল ছিল। তারা এসব বাচ্চা খুঁজে খুঁজে দেখতো। পুরুষ বাচ্চা হলে দাঁত দিয়ে গলা কেটে দিত। এভাবে মেরে ফেলতো।
এখন এসব শুনিনা। গলাকাটা কি বন্ধ করে দিয়েছে? মেয়ে বিড়ালেরা কি মদ্দা বিড়ালদের কনভিন্স করে ফেলেছে? নাকি শিশু অধিকার সচেতন হয়েছে?
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কাজ করেছি। একদিন দেশের বড় বড় ডাক্তাররা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে এলেন। তারা বললেন আর মেডিকেল কলেজ করা উচিত না। ডাক্তারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। মান নিচু হয়েছে। আগের আমলে এত মেডিকেল কলেজ ছিলনা, ডাক্তারের মান নিচু ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর চলে গেলেন তাদের কাছে আমি বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করলাম, ডাক্তার কমে গেলে কী মান ভালো হবে? এরপর অনেক দিন গড়িয়ে গেছে। অবসরে গেছি। Unimpressive চেহারা আরও unimpressive হয়েছে। কথা আর মনের জোর দুটাই কমেছে। বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামে কিউরেটর হয়ে আছি। একদল প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তার পরিদর্শনে এলেন, তাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব। তারা জেনে গেছে আমি শিক্ষা সচিব ছিলাম তাই কিছু অন্য কথাও হল। জিজ্ঞাসা করায় তারাও বলল ডাক্তারের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যেখানে সেখানে মেডিকেল কলেজ। তাই মান খারাপ হয়েছে।
আমি বললাম সংখ্যা কমলে কি মান ভালো হবে? নোয়াখালীর চরে যেয়ে দেখুনতো কতজনের কত ডাক্তার। মানলাম শহরে ভরা। গ্রামের কি অবস্থা। সংখ্যা না বাড়লে ভালো ডাক্তারের সংখ্যা বাড়বে কিভাবে? প্রতিযোগিতা হবে কিভাবে? হাজারখানেক পৃথিবী বিখ্যাত ডাক্তার আমাদের ১৬কোটি মানুষের সেবা দেবে কিভাবে? আমি সব প্রফেশনে পুরো বিড়াল সিনড্রোম দেখেছি। আমরা কি
“আমরা বিড়ালের আগেনা পিছে?”


স্যার, সবখানেই হুলো বিড়াল আছে, সবার দৃষ্টিভঙ্গি এখন ব্যবসায়ীক, নিজের ভাইকে ও প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।
কো-পিটিশন চাই কমপিটিশন না।