প্রশাসক সকালে উঠেই বলতে পারবেন না তাকে কি কি করতে হবে। নতুন কোন সমস্যা তাকে সমাধান করতে হবে। নতুন একটা মারামারি উদ্ভব হবে ? দাবি-দাওয়া নিয়ে মিছিল হবে ? নাকি চাঞ্চল্যকর একটা নিউজ হবে ?
চাষী সকালে উঠে বলতে পারবেন না আগামীকাল ফসলের কি অসুবিধা হবে ? বাতাসে ধান ধরাশায়ী হবে ? কোন পোকার উপদ্রব হবে ? নাকি নতুন কোনো রোগ বালাই হবে ?
প্রশাসক মাস শেষ হলেই বেতন পান। কৃষক ফসল হলে তা বিক্রি করে টাকা পান। দাম ভালো হলে লাভ না হলে লস। ফসল করার আগে অনেক অনেক প্রস্তুতি আছে।
এটা এমনি একটা পোস্ট-আমার অভিজ্ঞতার কথা বলছি।
যশোর থেকে বাড়ি এসেছি, বেশ ক’বছর যোশোরী, কিছুটা শহরে হয়েছি। কিছু একটা করার বাসনা। বাবাকে সাহায্য করা। বাবা কৃষিজীবী। তিনি কিষান দিয়ে কাজ করান। বাড়িতে এসে দেখলাম প্রাইমারি স্কুলের মাঠে বাধা দু’টি এঁড়ে গরু। ব্যস কাজ পেয়ে গেলাম। এদুটো এঁড়ে গরু নাংলা করতে বাবাকে লোক ঠিক করতে হবে। টাকা দিতে হবে। তারপর নাঙলা হবে।
আমি যদি নাঙলা করে দিতে পারি তবে টাকা বাঁচবে, সময় বাঁচবে। যদি নাঙলের পিছনে জুড়ে নাংলা করি তবে যদি দৌড় দেয় তবে পায়ে ফাল মারতে পারে। ফালমারা অর্থাৎ পায়ে লাঙলের লোহার ফলা ঢুকে জখম হওয়া। তাহলে বিকল্প কি ? হ্যাঁ বিকল্প আছে। গরুর গাড়িতে জুড়তে হবে।
স্কুল ঘরের মাঠে রাস্তার সাথে গরুর গাড়িতে এঁড়ে দুটো জুড়লাম। যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তাই তাদের গলার দড়ি জোয়ালের খিলের সাথে পেঁচিয়ে দিলাম। তারপর লেজে মোড়া, টিকনিতে টিপ। বলবেন কী সব শব্দ বলছেন? আমরা তো জানি নথি উত্থাপন, নথি নিষ্পত্তি, ফ্ল্যাগ দেওয়া, নোট দেওয়া। ঐসব তো কখনও শুনিনি!
গাড়ির সাথে কোন জিই’র jet engine লাগালো ছিলনা। লেজে হাত দিলাম, তারপর দেখি রাস্তায় পড়ে আছি। গাড়ি খোঁজাখুঁজি করলাম, নেই। গাড়িতে পিছনে আলী মুনসুর আর মাহবুব দুটি ছোট শিশু ছিল তাদের কোনো হদিস নেই। ছুটে গেলাম আধা কিলোমিটার দূরে, গাড়ি হড়ো খালির মধ্যে পড়ে আছে, গুরুও সেখানে। মাহবুব, আলী মুনসুর কই ? রাস্তার দু’পাশে আমন ধানের ক্ষেত। তখনকার দিনে আমন ধান লম্বা ছিল। কলিজার ভিতর মুষড়ে ধরল। তাদের কিছু হলে কি কৈফয়ত দিব ? যদি গাড়ির চাকা তাদের বুকের উপর দিয়ে গিয়ে থাকে তবে কি হবে? ততক্ষনে তারা রাস্তার পাশ থেকে ক্ষেত থেকে বেরিয়ে এসেছে। তাদের গাড়ি বুরাকের মতো ছুটে গেছে। গতি জড়তা জন্য তারা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েছে। বিপদজনক কোন কিছু হয়নি, এক মুহুর্তে মনে হল। risk শুধু সাহেবদেরই না চাষীদেরও আছে। চাষীদের ফসল ফলানোর পিছনে অনেক ত্যাগ, অনিশ্চয়তা, অনেক বিপদ আমরা শহুরেরা critically ভেবে দেখি না।
“Critical thinking আমাদেরকে অন্য পেশার মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে।”

