বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছি। এ জেড এম শামসুল আলম মহাপরিচালক। আমাকে হঠাৎ করে একটা নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হল। পদের নাম সুইপার বর্তমান নাম পরিচ্ছন্নকর্মী। শ’ খানেকের উপরে পরীক্ষার্থী। এতগুলো লোকের পরীক্ষা নেয়ার একটা হাঙ্গামা। মাথা একটা দুষ্টবুদ্ধি ঢুকল। চাকরি যখন সুইপারের ব্যবহারিক শিক্ষা নেওয উচিত। কিন্তু এতগুলো মানুষের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা নেয়ার মতো টয়লেট বা পেশাব খানা নেই। সাতশত বুদ্ধি বের করলাম, সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললাম। কে কে পায়খানার ভেতর ডান হাত এখনই ঢুকিয়ে দিতে পারবেন তারা 1 লাইনে দাঁড়ান। কারা কারা পারবেন না তারা আর একটা লাইনে দাঁড়ান। বলার সাথে সাথে কিছু প্রার্থী বলল আমরা পরীক্ষা দিতে এসেছি বিজ্ঞপ্তিতে পায়খানার ভিতরে হাত ঢুকানোর কোন কথা ছিলনা। আমি সাথে সাথে তাদেরকে আলাদা করে ফেললাম এবং বললাম নাম-ঠিকানা লিখে দিয়ে যান। ফলাফল জানাবো আপনাদের আর আসতে হবে না। বাকিদের আহা পায়খানা নিয়ে হাত ঢুকালাম না। ছোট্ট একটা পরীক্ষা নিলাম এদের ভেতরে কারা কারা একটু ভাল লিখতে এবং পড়তে পারে। সংখ্যায় কম তাই আমাকে বেগ পেতে হল না। এদের মধ্য থেকে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়ায় নেমে পড়লাম। অপরদিকে বিদায়ী জটলা পাটলা করছে। একপর্যায়ে তারা dg মহদয়ের কাছে গিয়ে অভিযোগ করল। তাদেরকে অন্যায় ভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। আমাকে কৈফিয়তের জন্য ডাক দেয়া হলো। আমি বললাম সুইপারের। পায়খানায় হাত দিতে এখনি আপত্তি। চাকরি পেলে কি করবে তা অনুমেয়। তাই আমি তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা কাজ করতে প্রস্তুত। তাদের মধ্য থেকে পরীক্ষা নিয়ে শ্রেষ্ঠদের বাছাই করে আপনার সামনে উপস্থাপন করব। এদের অনেকেই পেশাগতভাবে সুইপার না। তার উপরে যদি তারা কাজে অনাগ্রহী বা ঘৃনা বোধ করে এদেরকে দিয়ে ভালো কাজ পাওয়া যাবে না। এখন সিদ্ধান্ত আপনার, আমার মতামত দিয়েছি। আমার মতামত দিয়েছি। মহাপরিচালক মহোদয় মেথডিকাল তাকিয়ে থাকলেন, তারপর বললেন যাও। সম্ভবত এরপর থেকে আমি তার স্নেহধন্য হলাম।
সারা জীবন পরীক্ষা নেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে পরীক্ষাটা যেন ritualistic. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে বিষয়ে কাজ করতে হবে সেসব বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয় না। এমন প্রশ্ন করা হয় যা দেখলে মনে হয় তাকে শিক্ষকতা করতে হবে। নতুবা কোন সয়ম্বরা অনুষ্ঠানের প্রার্থী।



