একদা রোগী হয়েছিলাম, হৃদরোগী। পরিণতি বাইপাসে। হাসপাতালে বুকের পশম কামানো থেকে শুরু করে সবকিছু ফেলে দিল। শেষে লিখে ফেললাম একটা কবিতা। নাম তার রোগী ও ভিক্ষুক। রেখে দিলাম বালিশের নিচে। কিন্তু কবিতার দিকে আপনজনের কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।
তাই চলে গেল ময়লা হয়ে। কিন্তু অনুভূতিটা আজও ভুলতে পারিনি। তাই আজ পহেলা মে এর সকালে কবিতাটা ধানমন্ডি বাসায় বসে পুনঃনির্মাণ করলাম। সেরকম তো আর হয় না। তবে ভাবটা একই রকমের।
রোগী ও ফকির উভয় ভিক্ষা করে
কেউ স্বাস্থে্যর কেউ অর্থের
রোগী ডাক্তারের অপেক্ষায় বেডে
ফকির অপেক্ষা করে কবরস্থান, ঈদগা, জুম্মায়
রোগীর লক্ষ্য ডাক্তার, ফকিরের দাতা
লজ্জার মাথা খেয়ে যা কিছু বলে তা দেখাতে হয়
সম্মানহানিকর যা কিছু বলে তাই শুনতে হয়
ডাক্তার যাকিছু বলে তাই মানতে হয়
দাতা যাকিছু দেয় তাই খেতে হয়
যেমনি কম ওষুধে মন ভরেনা রোগীর
তেমনি কম ভিক্ষায় মন ভরেনা ফকিরের
রোগ না সারলে গালি দেয় রোগী
ভিক্ষা না পেলে গালি দেয় ভিক্ষুক
কি পার্থক্য এই রোগী আর ফকিরে?



